ভারতে ভোটার তালিকা ব্যাপকভাবে সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। এ নিয়ে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।
বিরোধীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে মিছিল করবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এর মাধ্যমে ভোটাধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মূল লক্ষ্য হলো মৃত ব্যক্তি, একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটার এবং যোগ্যতা পূরণ না করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। ভোটার তালিকা নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ভারতে অবৈধ অভিবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়ে আসছে, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ থেকে আসা নথিবিহীন কিছু অভিবাসী ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। বিরোধীরা অবশ্য এই ধরনের অভিযোগের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিরোধ এখন রাজপথ ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কেও রূপ নিয়েছে। নতুন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপরও চাপ বাড়াতে চাইছে বিরোধীরা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 









