ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল যশোরে পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁসের আশঙ্কায় স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেফতার ২ আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার ভুয়া টিএ বিল, ‘ভগবান ডিউটি’ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় আরএনবি ইন্সপেক্টর সালামত চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান হত্যা ও মানবপাচার মামলার আসামি মুকিম ঢাকায় গ্রেপ্তার জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উদযাপন সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় কুড়িগ্রামে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের হুমকিতে মাচাদোর নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর, দাবি সাবেক বিচারপতির

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশে সরকারের চাপ ও পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের হুমকির মুখে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দাবি করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি বারবারা সিজার সিয়েরো। তার এ বক্তব্যের পর মাচাদোর ওপর থেকে নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়েরো এ অভিযোগ করেন।

৫১ বছর বয়সী সিয়েরো ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তার স্বাক্ষর আদায়ের উদ্দেশ্যে তার দুই ভাই ও এক ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্য।

২০২৩ সালে বিরোধী দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেন মাচাদো। তবে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়া সম্ভব হয়নি।

পরে মাচাদোর পরিবর্তে বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পেশায় কূটনীতিক গঞ্জালেজ এর আগে সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে বিরোধী দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য অংশও নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তা স্বীকৃতি দেয়নি।

সিয়েরো জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার আত্মীয়দের গ্রেফতারের পর তাকে মোট নয়টি আদেশে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশও ছিল।

সাবেক এই বিচারপতি বলেন, তিনি আশা করেছিলেন, আদেশগুলোতে স্বাক্ষর করলে তার স্বজনদের মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু স্বাক্ষর করার পরও তাদের আটক রাখা হয়।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া চলার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনও মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পেছনে অন্যতম বিবেচ্য বিষয় ছিল।

সিয়েরোর এই অভিযোগ ভেনেজুয়েলার নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল

পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের হুমকিতে মাচাদোর নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর, দাবি সাবেক বিচারপতির

Update Time : ১১:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশে সরকারের চাপ ও পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের হুমকির মুখে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দাবি করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি বারবারা সিজার সিয়েরো। তার এ বক্তব্যের পর মাচাদোর ওপর থেকে নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়েরো এ অভিযোগ করেন।

৫১ বছর বয়সী সিয়েরো ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তার স্বাক্ষর আদায়ের উদ্দেশ্যে তার দুই ভাই ও এক ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্য।

২০২৩ সালে বিরোধী দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেন মাচাদো। তবে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়া সম্ভব হয়নি।

পরে মাচাদোর পরিবর্তে বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পেশায় কূটনীতিক গঞ্জালেজ এর আগে সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে বিরোধী দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য অংশও নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তা স্বীকৃতি দেয়নি।

সিয়েরো জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার আত্মীয়দের গ্রেফতারের পর তাকে মোট নয়টি আদেশে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশও ছিল।

সাবেক এই বিচারপতি বলেন, তিনি আশা করেছিলেন, আদেশগুলোতে স্বাক্ষর করলে তার স্বজনদের মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু স্বাক্ষর করার পরও তাদের আটক রাখা হয়।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া চলার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনও মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পেছনে অন্যতম বিবেচ্য বিষয় ছিল।

সিয়েরোর এই অভিযোগ ভেনেজুয়েলার নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।