স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে তোলেদো প্রদেশের উর্দা এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পেছন থেকে ধাক্কা, লাইনচ্যুত একাধিক বগি
বার্তা সংস্থা এএফপি ও স্পেনের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন এবং বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিওর একটি ট্রেন জড়িত ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইরিওর ট্রেনটি থেমে থাকা অবস্থায় রেনফের ট্রেনটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছেন। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স, দমকলের গাড়ি ও অন্যান্য জরুরি সেবার যান মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন।
মাদ্রিদ-দক্ষিণ স্পেন রেল যোগাযোগ বন্ধ
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এতে মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়াগামী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে কখন ওই রেলপথে স্বাভাবিক চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় যোগাযোগের সমস্যা এবং ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা রেললাইন, সংকেতব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো পরীক্ষা করছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সর্বশেষ খবর
শোক প্রকাশ স্পেন ও ইউরোপে
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন। প্রয়োজনে স্পেনকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
দুর্ঘটনার কারণে দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্পেনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক ইউরোপের অন্যতম বিস্তৃত এবং দেশটির পরিবহনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এত বড় প্রাণহানির ঘটনা রেল চলাচলের নিরাপত্তা ও সংকেতব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
স্পেনের রেল নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
চলতি বছরে স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ এলাকার কাছে আরেকটি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও দেশটির ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলো স্পেনের আধুনিক রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা, সংকেতব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।
তথ্যসূত্র: এএফপি, এল পাইস, স্কাই নিউজ।
তথ্যপ্রকাশের আরও খবর: আন্তর্জাতিক | দুর্ঘটনা | বিশ্ব সংবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















