চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন একটি বছর পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই দ্রুত সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও জানান, সম্পূরক পরীক্ষাতেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না অথবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না। এসব শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার পরীক্ষকদের তুলনামূলক কমসংখ্যক খাতা দেওয়া হয়েছে। অতীতে পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও ত্রুটির কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফলাফল কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এর পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দুর্বলতাকে দায়ী করা যায় না। বরং পাঠ্যক্রম, পাঠ্যবই, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বিশেষ কর্মসূচি
ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক দুর্বল ফলের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যেসব কলেজে শিক্ষার্থীসংখ্যা খুব কম অথবা পাসের হার শূন্য, সেসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভালো ফল করা নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকের চাকরি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।
শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠদান করতে হবে।
এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষা সংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদ | পরীক্ষা ও ফলাফল সংক্রান্ত খবর | জাতীয় সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক | তথ্য প্রকাশ 


















