ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ইউক্রেনের জন্য ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের, সরবরাহে লাগতে পারে কয়েক বছর জীববৈচিত্র্য সম্মেলন কপ-১৮ আয়োজন করবে ইকুয়েডর এক মাসের মধ্যে এইচএসসি অকৃতকার্যদের সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ গোবিন্দগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশ, পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ ডিসি জাহিদের যশোর মর্গে ১৭ দিন ধরে দুই ভারতীয়র মরদেহ, প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পরিবার এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ আজ সকাল ১১টায়, অনলাইন ও এসএমএসে জানবেন যেভাবে নভেম্বর থেকে টিসিবির পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা ভারত থেকে ট্রাভেল ও এক্সিট পারমিটে দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি নারী

এক মাসের মধ্যে এইচএসসি অকৃতকার্যদের সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন একটি বছর পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই দ্রুত সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান, সম্পূরক পরীক্ষাতেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না অথবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না। এসব শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার পরীক্ষকদের তুলনামূলক কমসংখ্যক খাতা দেওয়া হয়েছে। অতীতে পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও ত্রুটির কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফলাফল কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এর পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দুর্বলতাকে দায়ী করা যায় না। বরং পাঠ্যক্রম, পাঠ্যবই, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বিশেষ কর্মসূচি

ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক দুর্বল ফলের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব কলেজে শিক্ষার্থীসংখ্যা খুব কম অথবা পাসের হার শূন্য, সেসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভালো ফল করা নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকের চাকরি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।

শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠদান করতে হবে।

এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষা সংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদ | পরীক্ষা ও ফলাফল সংক্রান্ত খবর | জাতীয় সংবাদ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনের জন্য ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের, সরবরাহে লাগতে পারে কয়েক বছর

এক মাসের মধ্যে এইচএসসি অকৃতকার্যদের সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী

Update Time : ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন একটি বছর পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই দ্রুত সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান, সম্পূরক পরীক্ষাতেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না অথবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না। এসব শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার পরীক্ষকদের তুলনামূলক কমসংখ্যক খাতা দেওয়া হয়েছে। অতীতে পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও ত্রুটির কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফলাফল কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এর পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দুর্বলতাকে দায়ী করা যায় না। বরং পাঠ্যক্রম, পাঠ্যবই, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বিশেষ কর্মসূচি

ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক দুর্বল ফলের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব কলেজে শিক্ষার্থীসংখ্যা খুব কম অথবা পাসের হার শূন্য, সেসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভালো ফল করা নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকের চাকরি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।

শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠদান করতে হবে।

এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষা সংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদ | পরীক্ষা ও ফলাফল সংক্রান্ত খবর | জাতীয় সংবাদ