ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি ‘ইরানের নাগরিকেরা অনেক সমস্যায় আছেন’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ‘ঢাবিতে অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না, গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি’ নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনায় রোহিঙ্গা ও অভিবাসন রংপুরে একই পরিবারের চার হত্যা: দুই যুবক গ্রেপ্তার, পুলিশের ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য আগস্টের ২২ দিনেই ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হার, ১-১ সমতায় সিরিজ পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, যোগ্যতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাইবারক্যাব নিয়ে নতুন ঘোষণা, ৩ সেপ্টেম্বর অস্টিনে টেসলার বিশেষ আয়োজন

রংপুরে একই পরিবারের চার হত্যা: দুই যুবক গ্রেপ্তার, পুলিশের ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রাতভর অভিযানের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর কোতোয়ালি থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা পরস্পরের আত্মীয় এবং নিহত পরিবারের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে এবং মুগ্ধ একটি মাছের দোকানে কাজ করতেন।

এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ দেখে স্বজনরা পুলিশকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে আরপিএমপি কমিশনার জানান, চার দিন আগে রাতে নিহত শিক্ষকের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে গ্রেপ্তার দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলকে হত্যা করা হয়। তার আর্তনাদ শুনে স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুপুত্র প্রিয়মকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করে এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে রাখে। তারা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করে এবং দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তা ফাঁকা থাকার সুযোগে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে ডিবির বিশেষ দল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আরপিএমপি কমিশনার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি

রংপুরে একই পরিবারের চার হত্যা: দুই যুবক গ্রেপ্তার, পুলিশের ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ০৩:২১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রাতভর অভিযানের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর কোতোয়ালি থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা পরস্পরের আত্মীয় এবং নিহত পরিবারের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে এবং মুগ্ধ একটি মাছের দোকানে কাজ করতেন।

এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ দেখে স্বজনরা পুলিশকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে আরপিএমপি কমিশনার জানান, চার দিন আগে রাতে নিহত শিক্ষকের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে গ্রেপ্তার দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলকে হত্যা করা হয়। তার আর্তনাদ শুনে স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুপুত্র প্রিয়মকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করে এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে রাখে। তারা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করে এবং দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তা ফাঁকা থাকার সুযোগে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে ডিবির বিশেষ দল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আরপিএমপি কমিশনার।