ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি ‘ইরানের নাগরিকেরা অনেক সমস্যায় আছেন’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ‘ঢাবিতে অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না, গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি’ নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনায় রোহিঙ্গা ও অভিবাসন রংপুরে একই পরিবারের চার হত্যা: দুই যুবক গ্রেপ্তার, পুলিশের ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য আগস্টের ২২ দিনেই ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হার, ১-১ সমতায় সিরিজ পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, যোগ্যতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাইবারক্যাব নিয়ে নতুন ঘোষণা, ৩ সেপ্টেম্বর অস্টিনে টেসলার বিশেষ আয়োজন

পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, যোগ্যতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও পেশাগত মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌ ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করে আসছে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী।

 

দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের ত্যাগ ও অবদানের জন্য তিনি বাহিনী দুটির প্রধানসহ সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন তিনি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে নিহত ও আহতদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ও বীর সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

 

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও গবেষণা স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই) উদ্বোধনের স্মারক ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে এর বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

 

এরপর বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমান প্রতিহত করার কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম থেকে ড্রোনের লাইভ ফিডে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।

 

এ ছাড়া বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন তিনি। সেখানে বিমান বাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন—কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএলসহ বিভিন্ন উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।

 

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগকে বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি

পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, যোগ্যতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ১০:৪৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও পেশাগত মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌ ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করে আসছে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী।

 

দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের ত্যাগ ও অবদানের জন্য তিনি বাহিনী দুটির প্রধানসহ সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন তিনি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে নিহত ও আহতদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ও বীর সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

 

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও গবেষণা স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই) উদ্বোধনের স্মারক ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে এর বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

 

এরপর বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমান প্রতিহত করার কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম থেকে ড্রোনের লাইভ ফিডে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।

 

এ ছাড়া বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন তিনি। সেখানে বিমান বাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন—কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএলসহ বিভিন্ন উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।

 

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগকে বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।