ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি ‘ইরানের নাগরিকেরা অনেক সমস্যায় আছেন’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ‘ঢাবিতে অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না, গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি’ নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনায় রোহিঙ্গা ও অভিবাসন রংপুরে একই পরিবারের চার হত্যা: দুই যুবক গ্রেপ্তার, পুলিশের ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য আগস্টের ২২ দিনেই ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হার, ১-১ সমতায় সিরিজ পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, যোগ্যতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাইবারক্যাব নিয়ে নতুন ঘোষণা, ৩ সেপ্টেম্বর অস্টিনে টেসলার বিশেষ আয়োজন

‘ঢাবিতে অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না, গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে অন্যায় কখনো মেনে নেওয়া হয়নি। গায়ের জোরে কেউ এখানে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭০, ১৯৭১ ও ১৯৯০—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কালো দিবস’ পালন করা হচ্ছে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই সময়ের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময়ে তিনি শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং পরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে একজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে এসে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং জোর করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।

অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের কথিত ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া। তার দাবি, খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার ওপর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চাপ প্রয়োগ করা হলেও তিনি দেশ ছাড়ার বিষয়ে আপস করেননি। এ কারণেই তাকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে এসব চাপের মধ্যেও তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন উপাচার্য।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি একটি সাম্প্রতিক জরিপের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তার তুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বেশি। তার মতে, এ থেকেই মানুষের রাজনৈতিক পছন্দের একটি চিত্র পাওয়া যায়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি

‘ঢাবিতে অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না, গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি’

Update Time : ০৩:৩০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে অন্যায় কখনো মেনে নেওয়া হয়নি। গায়ের জোরে কেউ এখানে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭০, ১৯৭১ ও ১৯৯০—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কালো দিবস’ পালন করা হচ্ছে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই সময়ের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময়ে তিনি শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং পরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে একজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে এসে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং জোর করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।

অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের কথিত ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া। তার দাবি, খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার ওপর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চাপ প্রয়োগ করা হলেও তিনি দেশ ছাড়ার বিষয়ে আপস করেননি। এ কারণেই তাকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে এসব চাপের মধ্যেও তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন উপাচার্য।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি একটি সাম্প্রতিক জরিপের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তার তুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বেশি। তার মতে, এ থেকেই মানুষের রাজনৈতিক পছন্দের একটি চিত্র পাওয়া যায়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।