ইরানের নাগরিকেরা বর্তমানে নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অবগত এবং মানুষের সমস্যাগুলো সমাধানে যতটা সম্ভব কাজ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও কর্মসংস্থানের সংকটকে তিনি দেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর ইরানের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য আসে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ানো এবং দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করাই লক্ষ্য।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে ইরান অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা—তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ ইরানের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার চাপ তৈরির চেষ্টা।
দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট ইরানে জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার বিনিময় হারের অস্থিরতা ও বেকারত্বের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এসব সংকটকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে একাধিকবার বিক্ষোভও হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে তারা।
অন্যদিকে, বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ও নির্বিচার অভিযান চালিয়েছে, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, মূল্যস্ফীতি, জীবিকার সংকট ও বেকারত্ব মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার লক্ষ্য হলো নাগরিকেরা যেন মর্যাদা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















