ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশে সরকারের চাপ ও পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের হুমকির মুখে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দাবি করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি বারবারা সিজার সিয়েরো। তার এ বক্তব্যের পর মাচাদোর ওপর থেকে নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়েরো এ অভিযোগ করেন।
৫১ বছর বয়সী সিয়েরো ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তার স্বাক্ষর আদায়ের উদ্দেশ্যে তার দুই ভাই ও এক ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্য।
২০২৩ সালে বিরোধী দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেন মাচাদো। তবে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়া সম্ভব হয়নি।
পরে মাচাদোর পরিবর্তে বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পেশায় কূটনীতিক গঞ্জালেজ এর আগে সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে বিরোধী দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য অংশও নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তা স্বীকৃতি দেয়নি।
সিয়েরো জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার আত্মীয়দের গ্রেফতারের পর তাকে মোট নয়টি আদেশে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশও ছিল।
সাবেক এই বিচারপতি বলেন, তিনি আশা করেছিলেন, আদেশগুলোতে স্বাক্ষর করলে তার স্বজনদের মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু স্বাক্ষর করার পরও তাদের আটক রাখা হয়।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া চলার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনও মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পেছনে অন্যতম বিবেচ্য বিষয় ছিল।
সিয়েরোর এই অভিযোগ ভেনেজুয়েলার নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















