কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার লক্ষ্যে কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি।
বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এবং টানেলটির বর্তমান আর্থিক লোকসানের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে সংশোধনী সাপেক্ষে আগের সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের তালিকা কমিটির সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্পের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র তুলে ধরে প্রকল্পগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়েও কমিটিকে অবহিত করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণও বৈঠকে ব্যাখ্যা করা হয়। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে সমস্যা, যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ঘাটতি, সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবকে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জটিলতা দূর করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমানো এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য পদের বিপরীতে সুপরিকল্পিত কর্মভার নির্ধারণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন কমিটির সভাপতি।
বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম ও মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অংশ নেন।
এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | তথ্য প্রকাশ 



















