আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে মাঠে নামছে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। রোববার (১৮ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে স্বাগতিক পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তিন দলের ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। তিনটি দলই এই প্রতিযোগিতাকে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তিন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের ফলাফল বিবেচনায় তিন দলের সামনেই নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতি আনার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি সিরিজটিকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে তিনি জানান, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই ভালো প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
শাহিনের ভাষায়, ‘আমাদের ভালো করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখন মূল মনোযোগ বিশ্বকাপের দিকে। এর জন্য আমাদের ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।’
১৯৯২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ২০১১ সালের পর আর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০২৩ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরে পঞ্চম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল দলটি। এবার ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকতে চায় পাকিস্তান।
দলের ব্যাটিং লাইনআপে বাড়তি শক্তি যোগ করবেন বাবর আজম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলে না থাকলেও ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফিরছেন পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার। টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল পাকিস্তান।
আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামছে ইংল্যান্ড
২০১৯ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সপ্তম স্থানে থেকে আসর শেষ করা দলটি এবার আগেভাগেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চায়।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মনে করেন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা দলকে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ‘দুটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার এটি দারুণ সুযোগ। এই সিরিজ আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। আর ফাইনালে উঠতে পারলে আমরা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাব।’
তবে ইংল্যান্ড দলে থাকছেন না চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া তারকা ব্যাটার জস বাটলার এবং বিশ্রামে থাকা পেসার জোফরা আর্চার। তারপরও সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে এই প্রতিযোগিতায় খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। এর মধ্যে দুটি সিরিজ ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং অন্যটি ভারতের বিপক্ষে।
উন্নতির লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার
১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে দলকে আরও সংগঠিত করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিচ্ছে তারা।
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর আশা, এই প্রতিযোগিতায় ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দল নিজেদের উন্নতি দেখাতে পারবে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি
প্রাথমিক পর্বে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে দুবার করে খেলবে। রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাকি ম্যাচগুলো হবে লাহোরে। ৩১ অক্টোবর একই শহরে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
ম্যাচের সূচি:
- ১৮ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা — রাওয়ালপিন্ডি
- ২০ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড — রাওয়ালপিন্ডি
- ২২ অক্টোবর: ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা — রাওয়ালপিন্ডি
- ২৫ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড — লাহোর
- ২৭ অক্টোবর: পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা — লাহোর
- ২৯ অক্টোবর: ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা — লাহোর
- ৩১ অক্টোবর: ফাইনাল — লাহোর
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের দলীয় সমন্বয়, ব্যাটিং-বোলিংয়ের কার্যকারিতা এবং চাপের মধ্যে খেলার সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে তিন দলই। ফলে রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরের এই লড়াই শুধু একটি ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরবর্তী বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটের সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ | খেলাধুলার খবর
খেলাধুলা ডেস্ক 

















