ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব, ৫ লিটারে বাড়তে পারে ৭০ টাকা স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৬৮, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা নেতানিয়াহুবিরোধী ক্ষোভে ভোটকেন্দ্রে আরবরা, ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ ৬০ বছর পূর্তিতে চবির হীরকজয়ন্তী, রেজিস্ট্রেশন শুরু ৩০ অক্টোবর ২০৩০ বিশ্বকাপের ভেন্যু দেখতে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো সফরে যাচ্ছে ফিফা মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষা করালে  ব্যবস্থা চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসানকে বিদায় সংবর্ধনা ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী’ মন্তব্য: জামিন পেলেন ভালুকার সাথী আক্তার ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

নেতানিয়াহুবিরোধী ক্ষোভে ভোটকেন্দ্রে আরবরা, ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছেন দেশটির আরব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা। দীর্ঘদিন নির্বাচন বর্জন করে আসা অনেক ভোটার এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে গেছেন। এর ফলে পার্লামেন্ট নেসেটে আরব আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই ভোটের প্রভাব সরকার গঠনের সমীকরণে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করছে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রথমবার ভোট দিলেন অনেক আরব নাগরিক

উত্তর ইসরাইলের মাজদ আল-ক্রুম শহরের ৫০ বছর বয়সী গ্রন্থাগারকর্মী মাইসা নাসের জীবনে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বর্জন করে আসা নাসেরের ভাষ্য, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হতাশা এবং সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিজ্ঞতা তাকে এবার ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় ঐক্যের পরিবেশ ছিল ভিন্ন রকম। ভোটগ্রহণের শেষ সময়েও মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ দেখা গেছে।

ইসরাইলের আরব জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের মধ্যেও এবার একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনাগ্রহ কাটিয়ে তাদের অনেকে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চেয়েছেন।

নেসেটে আরব প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা

ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আরব আইনপ্রণেতারা প্রায় ১৯টি আসন পেতে পারেন বলে নির্বাচনী হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাজদ আল-ক্রুমের মতো আরব-অধ্যুষিত শহরে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরটিতে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যারা দেশ ছাড়েননি, তাদের বংশধরদের একটি বড় অংশ এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের অনেকেই দেশটির উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি এলাকার বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বসবাস করেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ খবর

বৈষম্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলের আরব ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক উত্তেজনা বেড়েছে। একই সঙ্গে আরব অধ্যুষিত এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ, গ্যাং-সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীদের কয়েকজন গ্যালিলি অঞ্চলে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব প্রস্তাব আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য ও জমির অধিকার নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।

১৮ বছর বয়সী ভোটার আমাল ফারহান মনে করেন, একজন আরব নাগরিক হিসেবে তার অধিকার ইহুদি নাগরিকদের অধিকারের সমান হওয়া উচিত। তার মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোট দেওয়ার ঘটনা পুরো আরব সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

সরকার পরিবর্তনের আশায় আরব ভোটাররা

নির্বাচনের পর মাজদ আল-ক্রুমে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জারকাউই বলেন, ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকৃত পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শহরটির কিছু বাসিন্দা আরব দলগুলোকে সমর্থন দিয়েছেন। আবার অনেকে বামপন্থী ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’ দলকেও ভোট দিয়েছেন। দলটির নেতা ইয়াইর গোলান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে আরব আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে বিরোধী শিবিরের সব নেতা এ ধরনের জোট গঠনে একমত নন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বারবার সরকারে আরব প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফলে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন: বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ

সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

আরব জনগোষ্ঠীর নাগরিকদের প্রত্যাশা শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। তারা নিজ নিজ এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গ্যাং-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ চান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

৮৩ বছর বয়সী অধিকারকর্মী মাহমুদ জিহন বলেন, প্রতিদিন মানুষ হত্যার শিকার হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বৈষম্যের আশঙ্কা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন।

জিহন ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাকে স্মরণ করে নতুন করে ‘নাকবা’র আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। নাকবা আরবি শব্দ, যার অর্থ বিপর্যয়। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

মাজদ আল-ক্রুমের বাসিন্দা সামিহা শাবানও পরিবারের জমি হারানোর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন। তার মতে, এবারের নির্বাচনের রাতে মানুষের মধ্যে যে আনন্দ দেখা গেছে, তা কয়েক দশকের মধ্যে বিরল।

আরব ভোট কি নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর পথ তৈরি করবে?

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এবার ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

তবে আরব আইনপ্রণেতাদের আসন বৃদ্ধি একাই সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত করে না। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা, সম্ভাব্য জোট গঠন এবং আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই নির্বাচনী অংশগ্রহণের বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব।

মাজদ আল-ক্রুমের ভোটারদের কাছে এবারের নির্বাচন তাই কেবল সরকার নির্বাচনের বিষয় নয়; বরং সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা জানানোর একটি মাধ্যম।

সূত্র: ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রাসঙ্গিক লিংক:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব, ৫ লিটারে বাড়তে পারে ৭০ টাকা

নেতানিয়াহুবিরোধী ক্ষোভে ভোটকেন্দ্রে আরবরা, ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

Update Time : ০৯:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছেন দেশটির আরব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা। দীর্ঘদিন নির্বাচন বর্জন করে আসা অনেক ভোটার এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে গেছেন। এর ফলে পার্লামেন্ট নেসেটে আরব আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই ভোটের প্রভাব সরকার গঠনের সমীকরণে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করছে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রথমবার ভোট দিলেন অনেক আরব নাগরিক

উত্তর ইসরাইলের মাজদ আল-ক্রুম শহরের ৫০ বছর বয়সী গ্রন্থাগারকর্মী মাইসা নাসের জীবনে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বর্জন করে আসা নাসেরের ভাষ্য, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হতাশা এবং সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিজ্ঞতা তাকে এবার ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় ঐক্যের পরিবেশ ছিল ভিন্ন রকম। ভোটগ্রহণের শেষ সময়েও মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ দেখা গেছে।

ইসরাইলের আরব জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের মধ্যেও এবার একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনাগ্রহ কাটিয়ে তাদের অনেকে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চেয়েছেন।

নেসেটে আরব প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা

ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আরব আইনপ্রণেতারা প্রায় ১৯টি আসন পেতে পারেন বলে নির্বাচনী হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাজদ আল-ক্রুমের মতো আরব-অধ্যুষিত শহরে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরটিতে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যারা দেশ ছাড়েননি, তাদের বংশধরদের একটি বড় অংশ এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের অনেকেই দেশটির উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি এলাকার বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বসবাস করেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ খবর

বৈষম্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলের আরব ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক উত্তেজনা বেড়েছে। একই সঙ্গে আরব অধ্যুষিত এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ, গ্যাং-সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীদের কয়েকজন গ্যালিলি অঞ্চলে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব প্রস্তাব আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য ও জমির অধিকার নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।

১৮ বছর বয়সী ভোটার আমাল ফারহান মনে করেন, একজন আরব নাগরিক হিসেবে তার অধিকার ইহুদি নাগরিকদের অধিকারের সমান হওয়া উচিত। তার মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোট দেওয়ার ঘটনা পুরো আরব সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

সরকার পরিবর্তনের আশায় আরব ভোটাররা

নির্বাচনের পর মাজদ আল-ক্রুমে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জারকাউই বলেন, ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকৃত পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শহরটির কিছু বাসিন্দা আরব দলগুলোকে সমর্থন দিয়েছেন। আবার অনেকে বামপন্থী ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’ দলকেও ভোট দিয়েছেন। দলটির নেতা ইয়াইর গোলান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে আরব আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে বিরোধী শিবিরের সব নেতা এ ধরনের জোট গঠনে একমত নন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বারবার সরকারে আরব প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফলে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন: বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ

সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

আরব জনগোষ্ঠীর নাগরিকদের প্রত্যাশা শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। তারা নিজ নিজ এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গ্যাং-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ চান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

৮৩ বছর বয়সী অধিকারকর্মী মাহমুদ জিহন বলেন, প্রতিদিন মানুষ হত্যার শিকার হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বৈষম্যের আশঙ্কা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন।

জিহন ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাকে স্মরণ করে নতুন করে ‘নাকবা’র আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। নাকবা আরবি শব্দ, যার অর্থ বিপর্যয়। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

মাজদ আল-ক্রুমের বাসিন্দা সামিহা শাবানও পরিবারের জমি হারানোর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন। তার মতে, এবারের নির্বাচনের রাতে মানুষের মধ্যে যে আনন্দ দেখা গেছে, তা কয়েক দশকের মধ্যে বিরল।

আরব ভোট কি নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর পথ তৈরি করবে?

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এবার ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

তবে আরব আইনপ্রণেতাদের আসন বৃদ্ধি একাই সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত করে না। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা, সম্ভাব্য জোট গঠন এবং আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই নির্বাচনী অংশগ্রহণের বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব।

মাজদ আল-ক্রুমের ভোটারদের কাছে এবারের নির্বাচন তাই কেবল সরকার নির্বাচনের বিষয় নয়; বরং সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা জানানোর একটি মাধ্যম।

সূত্র: ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রাসঙ্গিক লিংক: