ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে স্পিকারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্বর্ণজয়, দেশে ফিরল পদকজয়ী দল সাতক্ষীরায় জাতীয় যুব দিবস পালিত, ৫ যুবক পেলেন ৫ লাখ টাকার ঋণ রাজবাড়ীতে জাতীয় যুব সপ্তাহের উদ্বোধন, ঋণের চেক পেলেন ১১ যুবক মাতারবাড়ীতে ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ ইংরেজি-আইসিটিতে ফেল, যশোর বোর্ডে ফল বিপর্যয়; ৯ বোর্ডের মধ্যে অষ্টম সাজিনাজ হাসপাতাল ও রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর জামালগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুবদিবস উদযাপন নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ প্রশাসক ডা. শাহাদাতের কেশবপুরে স্যালোমেশিনের পানির গর্ত থেকে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ইংরেজি-আইসিটিতে ফেল, যশোর বোর্ডে ফল বিপর্যয়; ৯ বোর্ডের মধ্যে অষ্টম

ইংরেজি ও আইসিটিতে ফেলের ধাক্কায় যশোর বোর্ডে এবছরও ফল বিপর্যয় ঘটেছে। গতবছরের তুলনায় কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি।

 

এ বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ ভাগ; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ ভাগ; জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী।

গতবছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৮ শতাংশের বেশি এবং জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় দুই হাজার আটশ’।

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে যশোর বোর্ডের এই চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, ইংরেজি, আইসিটি ও উচ্চতর গণিতে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

 

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড’র সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন এসব তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী।

 

যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২১ হাজার ৫০২ জন এবং ছাত্রী ২৯ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২।জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। বহিষ্কৃত হয়েছেন ৪৩ জন।

 

এর আগে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৬ হাজার ৫০৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২৪ হাজার ৯০১ জন এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ৬০৮ জন। পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন। বহিষ্কৃত হন ২৬ জন।

 

যশোর শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২১ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ১৬৭ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৮ জন।

 

মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৭৯ হাজার ১৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০ হাজার ১৯১ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ ভাগ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১২ হাজার ১১৫ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ৫ হাজার ৩১০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৫ জন ছাত্র ছাত্রী।

 

এবারের ফলাফলের চিত্র তুলে ধরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড’র সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫, আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ ও উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১। এই তিন বিষয়ে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

 

সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন আরও বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজির ক্লাস নেন, আবার আইসিটির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া নকলমুক্ত, সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। এইসব কারণে সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তবে আগামীতে বোর্ডের ফলাফল ভাল করার জন্য তারা পদক্ষেপ নেবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকি জরুরি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে স্পিকারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

ইংরেজি-আইসিটিতে ফেল, যশোর বোর্ডে ফল বিপর্যয়; ৯ বোর্ডের মধ্যে অষ্টম

Update Time : ০২:১৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইংরেজি ও আইসিটিতে ফেলের ধাক্কায় যশোর বোর্ডে এবছরও ফল বিপর্যয় ঘটেছে। গতবছরের তুলনায় কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি।

 

এ বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ ভাগ; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ ভাগ; জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী।

গতবছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৮ শতাংশের বেশি এবং জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় দুই হাজার আটশ’।

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে যশোর বোর্ডের এই চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, ইংরেজি, আইসিটি ও উচ্চতর গণিতে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

 

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড’র সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন এসব তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী।

 

যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২১ হাজার ৫০২ জন এবং ছাত্রী ২৯ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২।জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। বহিষ্কৃত হয়েছেন ৪৩ জন।

 

এর আগে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৬ হাজার ৫০৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২৪ হাজার ৯০১ জন এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ৬০৮ জন। পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন। বহিষ্কৃত হন ২৬ জন।

 

যশোর শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২১ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ১৬৭ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৮ জন।

 

মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৭৯ হাজার ১৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০ হাজার ১৯১ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ ভাগ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১২ হাজার ১১৫ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ৫ হাজার ৩১০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৫ জন ছাত্র ছাত্রী।

 

এবারের ফলাফলের চিত্র তুলে ধরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড’র সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫, আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ ও উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১। এই তিন বিষয়ে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

 

সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন আরও বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজির ক্লাস নেন, আবার আইসিটির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া নকলমুক্ত, সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। এইসব কারণে সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তবে আগামীতে বোর্ডের ফলাফল ভাল করার জন্য তারা পদক্ষেপ নেবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকি জরুরি।