অভিনয়ের ব্যস্ততা সামলেও পড়াশোনায় ভালো ফল করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নিয়মিত নাটকের শুটিংয়ের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে এসএসসি ও এইচএসসি—দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি।
২০১৫ সালে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন হিমি। এসএসসি পরীক্ষার সময়ও ধারাবাহিক নাটক ‘মোহর আলী’র শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই অনেক সময় শুটিংয়ে যোগ দিতে হতো তাঁকে। ধারাবাহিক নাটকের শিডিউল সবার সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হতো বলে শুটিং বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
সেই সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে হিমি গণমাধ্যমকে বলেন, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালেও শুটিং করেছেন তিনি। পরীক্ষা শেষ করে শুটিংয়ে অংশ নিতেন। তবে বিষয়টি তাঁর কাছে কখনো বিরক্তিকর মনে হয়নি। কারণ, আগে থেকেই পড়াশোনার প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতেন।
শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কৌশল সম্পর্কে এই অভিনেত্রী জানান, শুটিং সেটে গিয়েও বই নিয়ে বসতেন তিনি। অবসর সময়টুকু কাজে লাগিয়ে পড়াশোনা শেষ করার চেষ্টা করতেন। এ কারণে সহকর্মীদের কাছেও পড়ুয়া হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও নিয়মিত শুটিং করেছেন হিমি। তবে সে সময় পরীক্ষা শেষ করে আর শুটিংয়ে যেতে হয়নি। নিজের পড়াশোনার অভ্যাস সম্পর্কে তিনি জানান, সময় পেলেই বই নিয়ে বসতেন। পরীক্ষায় ভালো করার বিষয়ে নিজের মধ্যে সব সময় এক ধরনের তাগিদ অনুভব করতেন।
পড়াশোনার প্রতি এতটা মনোযোগী হওয়ার পেছনে পারিবারিক একটি কারণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর পরিবারের অন্য কেউ অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত নন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে অভিনয়ে আসায় নিজের অবস্থান তৈরি করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতেন তিনি।
হিমির ভাষায়, পরিবারের কেউ অভিনয় না করায় তাঁকে সব সময় মনে রাখতে হতো, অভিনয়ের কারণে যেন পড়াশোনার ক্ষতি না হয়। মা-বাবাও যেন তাঁর কোনো বিষয়ে হতাশ না হন, সেটি ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
অভিনেত্রী জানান, মা-বাবা কখনো পড়াশোনা নিয়ে তাঁকে অতিরিক্ত চাপ দেননি। বরং ভালো ফল করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে নিজের আগ্রহ ও প্রচেষ্টাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পরীক্ষায় ভালো ফলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে হিমি বলেন, মা-বাবার একটি পরামর্শ তিনি সব সময় মেনে চলতেন—পরীক্ষায় অন্যের লেখা দেখে উত্তর দেওয়া যাবে না, নিজের যতটুকু প্রস্তুতি আছে সেটুকুই লিখতে হবে। তাঁর মতে, পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য আগে থেকেই ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’ নাটকে পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা
অভিনয়জীবনেও বেশ কিছু জনপ্রিয় কাজ উপহার দিয়েছেন হিমি। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে মহিন খানের পরিচালনায় ‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’। নাটকটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন নিলয় আলমগীর। নাটকটি অনলাইন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নারী অভিনয়শিল্পীদের নাটকের ভিউয়ের ক্ষেত্রে এটি সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় কাজগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিক নাটকে ফেরা
এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন ধারাবাহিক ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ নিয়ে পর্দায় ফিরেছেন হিমি। ‘স্মৃতির আল্পনা’ ধারাবাহিকে কাজ করার প্রায় ছয় বছর পর নতুন এই ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি। নাটকটি পরিচালনা করেছেন তানভীর তন্ময়।
নতুন ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট অভিনেত্রী। নিজের অনুভূতি জানিয়ে হিমি বলেন, দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিকে ফিরে এতটা প্রশংসা পাবেন, তা তিনি ভাবেননি।
তিনি আরও জানান, তাঁর কমেডি নাটকের কিছু দর্শক নতুন কাজটি হয়তো পছন্দ করছেন না। তবে অধিকাংশ দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে গল্পনির্ভর ভালো কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
অভিনয় ও পড়াশোনা—দুই ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবহার এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনায় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
বিনোদন ডেস্ক 



















