ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল যশোরে পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁসের আশঙ্কায় স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেফতার ২ আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার ভুয়া টিএ বিল, ‘ভগবান ডিউটি’ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় আরএনবি ইন্সপেক্টর সালামত চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান হত্যা ও মানবপাচার মামলার আসামি মুকিম ঢাকায় গ্রেপ্তার জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উদযাপন সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় কুড়িগ্রামে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল

নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ অনুদানের আওতায় নগরের বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ৫০টিরও বেশি আধুনিক বর্জ্যবাহী যান ও ল্যান্ডফিল পরিচালনার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নগরে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের বিষয়েও সহযোগিতা করবে সংস্থাটি।

 

এ বিষয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

বৈঠকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অনুদান প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) অনুমোদন দিয়েছে জাপান সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে জাইকার সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষজ্ঞ মিশন চট্টগ্রামে আসবে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

বৈঠকে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ প্রসঙ্গে চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্লটে ১৮ একর এবং পার্শ্ববর্তী অন্য একটি প্লটে ১০ একর জমি রয়েছে।

 

জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া জানান, নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত প্রস্তুতের লক্ষ্যে নকশা ও প্রাক্কলন (বিওকিউ) তৈরিতে জাইকার কারিগরি সহায়তা দলের বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে চসিকের সঙ্গে কাজ করছেন।

 

চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন জাইকার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে চসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের পাশাপাশি চসিকের বিদ্যমান ল্যান্ডফিল সাইটগুলোর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নেও জাইকার কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জাইকা বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসেন এবং জাইকার বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য তাকাতোশি আরাই, হিরোফুমি মিয়োশি, সাতোশি হিগাশিনাকাগাওয়া ও প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার।

 

প্রস্তাবিত এ অনুদান ও কারিগরি সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল

চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল

Update Time : ০৯:০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ অনুদানের আওতায় নগরের বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ৫০টিরও বেশি আধুনিক বর্জ্যবাহী যান ও ল্যান্ডফিল পরিচালনার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নগরে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের বিষয়েও সহযোগিতা করবে সংস্থাটি।

 

এ বিষয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

বৈঠকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অনুদান প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) অনুমোদন দিয়েছে জাপান সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে জাইকার সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষজ্ঞ মিশন চট্টগ্রামে আসবে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

বৈঠকে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ প্রসঙ্গে চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্লটে ১৮ একর এবং পার্শ্ববর্তী অন্য একটি প্লটে ১০ একর জমি রয়েছে।

 

জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া জানান, নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত প্রস্তুতের লক্ষ্যে নকশা ও প্রাক্কলন (বিওকিউ) তৈরিতে জাইকার কারিগরি সহায়তা দলের বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে চসিকের সঙ্গে কাজ করছেন।

 

চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন জাইকার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে চসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের পাশাপাশি চসিকের বিদ্যমান ল্যান্ডফিল সাইটগুলোর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নেও জাইকার কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জাইকা বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসেন এবং জাইকার বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য তাকাতোশি আরাই, হিরোফুমি মিয়োশি, সাতোশি হিগাশিনাকাগাওয়া ও প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার।

 

প্রস্তাবিত এ অনুদান ও কারিগরি সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।