টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। এছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও বন্যা ও পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক। এছাড়া ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, মিরসরাই, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও স্থানীয় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কক্সবাজারেও বন্যার প্রভাব ব্যাপক। চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় নিরাপদ পানীয় পানি, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য নলকূপ, ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাব জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় নৌযান ব্যবহার করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জহুরুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক 
















