ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ডিএমএফ কোর্স চলছে, নিয়োগে অনিশ্চয়তা: SACMO পদ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ কতদূর? শার্শায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ‘শিবিরের কর্মীরা মেধাবী ও উত্তম চরিত্রের’–এমপি আজীজুর রহমান খুচরা সার বিক্রির অভিযোগে কুড়িগ্রামে ডিলারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি ‘ইরানের নাগরিকেরা অনেক সমস্যায় আছেন’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ‘ঢাবিতে অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না, গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি’ নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনায় রোহিঙ্গা ও অভিবাসন

মূল্যস্ফীতির চাপ সামলে সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এখনো অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিলেও নতুন সম্ভাবনার খাত হিসেবে সামনে আসছে সৃজনশীল অর্থনীতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জুন মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে আসে, যা মে মাসের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশের তুলনায় কম। খাদ্য ও অখাদ্য—উভয় খাতেই কিছুটা চাপ কমলেও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর প্রভাব এখনো রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শুধু বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। আমদানি ব্যয়, জ্বালানি মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখনো মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

সৃজনশীল অর্থনীতিতে বাড়ছে গুরুত্ব

বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতি এখন দ্রুত বিকাশমান একটি খাত। চলচ্চিত্র, সংগীত, ডিজিটাল কনটেন্ট, সফটওয়্যার, গেমিং, ডিজাইন, ফ্যাশন, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলো নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

বাংলাদেশেও এই খাতকে এগিয়ে নিতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এই খাতের অবদান বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

তরুণদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী সৃজনশীল অর্থনীতির বড় শক্তি হতে পারে। ডিজিটাল দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা সহায়তা বাড়ানো গেলে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মিডিয়া, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক শিল্প থেকে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

টেকসই অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক খাত তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং সৃজনশীল শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন

মূল্যস্ফীতির চাপ সামলে সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

Update Time : ০৫:২২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এখনো অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিলেও নতুন সম্ভাবনার খাত হিসেবে সামনে আসছে সৃজনশীল অর্থনীতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জুন মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে আসে, যা মে মাসের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশের তুলনায় কম। খাদ্য ও অখাদ্য—উভয় খাতেই কিছুটা চাপ কমলেও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর প্রভাব এখনো রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শুধু বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। আমদানি ব্যয়, জ্বালানি মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখনো মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

সৃজনশীল অর্থনীতিতে বাড়ছে গুরুত্ব

বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতি এখন দ্রুত বিকাশমান একটি খাত। চলচ্চিত্র, সংগীত, ডিজিটাল কনটেন্ট, সফটওয়্যার, গেমিং, ডিজাইন, ফ্যাশন, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলো নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

বাংলাদেশেও এই খাতকে এগিয়ে নিতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এই খাতের অবদান বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

তরুণদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী সৃজনশীল অর্থনীতির বড় শক্তি হতে পারে। ডিজিটাল দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা সহায়তা বাড়ানো গেলে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মিডিয়া, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক শিল্প থেকে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

টেকসই অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক খাত তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং সৃজনশীল শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।