ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল যশোরে পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁসের আশঙ্কায় স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেফতার ২ আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার ভুয়া টিএ বিল, ‘ভগবান ডিউটি’ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় আরএনবি ইন্সপেক্টর সালামত চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান হত্যা ও মানবপাচার মামলার আসামি মুকিম ঢাকায় গ্রেপ্তার জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উদযাপন সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় কুড়িগ্রামে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়া হয়েছে  মানবিক বিবেচনায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়।

ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করলেও তিনি দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। ভারতের সংসদে উপস্থাপিত একটি সরকারি প্রতিবেদনে এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় অনুমোদিত হয়েছে। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সরকার জানিয়েছে, এই নীতি সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যে আবেদন করেছে, সেটি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন থাকায় এ নিয়ে ভারত সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

ভারতের সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশও করেছে। কমিটির মতে, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পারিবারিক যোগাযোগের স্বার্থে ভিসা সেবা সহজ হওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের এই অবস্থান একদিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকার নীতিকেও পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ আবেদন নিয়ে ভবিষ্যতে ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত সহযোগিতা, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়

Update Time : ০৭:০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়া হয়েছে  মানবিক বিবেচনায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়।

ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করলেও তিনি দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। ভারতের সংসদে উপস্থাপিত একটি সরকারি প্রতিবেদনে এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় অনুমোদিত হয়েছে। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সরকার জানিয়েছে, এই নীতি সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যে আবেদন করেছে, সেটি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন থাকায় এ নিয়ে ভারত সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

ভারতের সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশও করেছে। কমিটির মতে, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পারিবারিক যোগাযোগের স্বার্থে ভিসা সেবা সহজ হওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের এই অবস্থান একদিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকার নীতিকেও পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ আবেদন নিয়ে ভবিষ্যতে ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত সহযোগিতা, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।