ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিএসটিআইয়ের পদক্ষেপ: নমুনা পরীক্ষা শুরু, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায় রাউজানের আলোচিত হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনসহ ৪ জন গ্রেপ্তার মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন গুরুত্ব সিআইডির শীর্ষ পদে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনেও রক্ষা হয়নি, রাজৈরে গ্রেপ্তার হত্যা মামলার আসামি বগুড়া সদরে বাসে তল্লাশি, ১০০ বোতল ‘ইস্কাফ’সহ দুই নারী আটক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ, এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার চেষ্টা অপ-সাংবাদিকতা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে হামের প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়া হয়েছে  মানবিক বিবেচনায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়।

ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করলেও তিনি দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। ভারতের সংসদে উপস্থাপিত একটি সরকারি প্রতিবেদনে এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় অনুমোদিত হয়েছে। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সরকার জানিয়েছে, এই নীতি সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যে আবেদন করেছে, সেটি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন থাকায় এ নিয়ে ভারত সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

ভারতের সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশও করেছে। কমিটির মতে, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পারিবারিক যোগাযোগের স্বার্থে ভিসা সেবা সহজ হওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের এই অবস্থান একদিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকার নীতিকেও পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ আবেদন নিয়ে ভবিষ্যতে ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত সহযোগিতা, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিএসটিআইয়ের পদক্ষেপ: নমুনা পরীক্ষা শুরু, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়

Update Time : ০৭:০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়া হয়েছে  মানবিক বিবেচনায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি নয়, প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনায়।

ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করলেও তিনি দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। ভারতের সংসদে উপস্থাপিত একটি সরকারি প্রতিবেদনে এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় অনুমোদিত হয়েছে। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সরকার জানিয়েছে, এই নীতি সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যে আবেদন করেছে, সেটি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন থাকায় এ নিয়ে ভারত সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

ভারতের সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশও করেছে। কমিটির মতে, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পারিবারিক যোগাযোগের স্বার্থে ভিসা সেবা সহজ হওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের এই অবস্থান একদিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকার নীতিকেও পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ আবেদন নিয়ে ভবিষ্যতে ভারত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত সহযোগিতা, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।