বাংলাদেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি সরবরাহ, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (RPGCL) আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত স্পট এলএনজি কার্গো সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল রাখা যায়। তবে বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট এই প্রচেষ্টাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, নতুন গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যমান অবকাঠামোর দক্ষতা বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে টার্মিনালের মেরামত কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।
নিউজ ডেস্ক 


















