ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ, মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ যশোরের শার্শায় চোর সন্দেহে আটক ৬, আদালতে সোপর্দ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান সিডনিতে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম ফ্লাইট, ব্যয় ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার চমাশিহা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনির পথচলা শুরু, প্রথম কমিটি ঘোষণা নজরুলের আদর্শে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী যশোরে শার্শায় দাদার বিরুদ্ধে  নাতিকে ধর্ষণের অভিযোগ বোয়ালখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন এমপি এরশাদ উল্লাহ শার্শায় গাঁজা ও বিদেশি মদসহ আটক, কারবারির ৩ বছরের কারাদণ্ড
দ্বায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই ফিরিয়ে আনতে পারে মানুষের হারানো আস্থা

অপ-সাংবাদিকতা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে

গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যাচাইহীন তথ্য, বিভ্রান্তিকর শিরোনাম এবং ভুয়া তথ্যের দ্রুত বিস্তারের কারণে সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ভুল সংবাদ বা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, অথচ পরবর্তী সংশোধনী সেই ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারে না।

 

বাংলাদেশে স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা Rumor Scanner জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, রাজনৈতিক ঘটনা ও ব্যক্তিদের নিয়ে অসংখ্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দেশ-বিদেশে ছড়ানো হয়। এসব তথ্যের অনেকগুলো পরে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে প্রমাণিত হয়।

 

যাচাইযোগ্য কয়েকটি উদাহরণ

 

১. ভুল পরিচয়ে হত্যার সংবাদ প্রকাশ ও পরবর্তী ক্ষমা প্রার্থনা

 

১৮ এপ্রিল ২০২৫ সালে একটি জাতীয় দৈনিক ভুলবশত একটি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিকে স্থানীয় হিন্দু নেতা হিসেবে শনাক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করে। পরে তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে পত্রিকাটি প্রকাশ্যে ক্ষমা চায় এবং সংবাদটি সংশোধন করে। তবে এর আগেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

 

২. লিটন দাসের বাড়িতে হামলার ভুয়া খবর

 

২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাসের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে দেখা যায়, দাবিটি মিথ্যা। লিটন দাস নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

৩. সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে প্রচারিত একাধিক ঘটনা পরে ভিন্ন কারণে সংঘটিত বলে প্রমাণিত

 

২০২৪-২৫ সালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে প্রচারিত কয়েকটি আলোচিত ঘটনার তদন্তে দেখা যায়, কিছু ঘটনা ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চুরি, জমিজমা বা অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল; সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়নি। এ ধরনের যাচাইহীন প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

 

বিশেষজ্ঞদের মত

 

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদ প্রকাশের আগে একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই, ভুল হলে দ্রুত সংশোধনী প্রকাশ এবং বিভ্রান্তিকর শিরোনাম পরিহার করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। একই সঙ্গে পাঠকদেরও যেকোনো সংবাদ বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা যেমন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তেমনি ভুল বা যাচাইহীন সংবাদ মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং নিরীহ ব্যক্তিকেও অযথা সামাজিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ, মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন

দ্বায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই ফিরিয়ে আনতে পারে মানুষের হারানো আস্থা

অপ-সাংবাদিকতা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে

Update Time : ০১:৫২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যাচাইহীন তথ্য, বিভ্রান্তিকর শিরোনাম এবং ভুয়া তথ্যের দ্রুত বিস্তারের কারণে সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ভুল সংবাদ বা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, অথচ পরবর্তী সংশোধনী সেই ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারে না।

 

বাংলাদেশে স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা Rumor Scanner জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, রাজনৈতিক ঘটনা ও ব্যক্তিদের নিয়ে অসংখ্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দেশ-বিদেশে ছড়ানো হয়। এসব তথ্যের অনেকগুলো পরে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে প্রমাণিত হয়।

 

যাচাইযোগ্য কয়েকটি উদাহরণ

 

১. ভুল পরিচয়ে হত্যার সংবাদ প্রকাশ ও পরবর্তী ক্ষমা প্রার্থনা

 

১৮ এপ্রিল ২০২৫ সালে একটি জাতীয় দৈনিক ভুলবশত একটি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিকে স্থানীয় হিন্দু নেতা হিসেবে শনাক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করে। পরে তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে পত্রিকাটি প্রকাশ্যে ক্ষমা চায় এবং সংবাদটি সংশোধন করে। তবে এর আগেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

 

২. লিটন দাসের বাড়িতে হামলার ভুয়া খবর

 

২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাসের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে দেখা যায়, দাবিটি মিথ্যা। লিটন দাস নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

৩. সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে প্রচারিত একাধিক ঘটনা পরে ভিন্ন কারণে সংঘটিত বলে প্রমাণিত

 

২০২৪-২৫ সালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে প্রচারিত কয়েকটি আলোচিত ঘটনার তদন্তে দেখা যায়, কিছু ঘটনা ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চুরি, জমিজমা বা অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল; সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়নি। এ ধরনের যাচাইহীন প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

 

বিশেষজ্ঞদের মত

 

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদ প্রকাশের আগে একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই, ভুল হলে দ্রুত সংশোধনী প্রকাশ এবং বিভ্রান্তিকর শিরোনাম পরিহার করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। একই সঙ্গে পাঠকদেরও যেকোনো সংবাদ বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা যেমন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তেমনি ভুল বা যাচাইহীন সংবাদ মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং নিরীহ ব্যক্তিকেও অযথা সামাজিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।