ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
সৌদি আরবে নিরাপত্তা ঝুঁকি: ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত সৌদি আরবে হামলায় আহত প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে সরকার: মন্ত্রী বেনাপোল স্থলবন্দরের উন্নয়নে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও জনমত যাচাই সভা চকবাজারের মঞ্জুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে, টানা সাড়ে ১২ ঘণ্টা অভিযান নাগেশ্বরীতে আ.লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাদের সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ দুর্গাপূজায় টানা ৮ দিন বন্ধ বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব খাগড়াছড়ির কৃষি ও হস্তশিল্পপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ইপিবির মতবিনিময় সভা সোমবার ইসি সভায় চূড়ান্ত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, হ্যাটট্রিক জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে যুবারা

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিএসটিআইয়ের পদক্ষেপ: নমুনা পরীক্ষা শুরু, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার দাবি সামনে আসার পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় জাতীয় মান লঙ্ঘন বা অনুমোদনবিহীন উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএসডিও (ESDO) একটি গবেষণায় দাবি করে, তারা পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। গবেষণাটি প্রকাশের পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে বিএসটিআই নিজস্ব যাচাই কার্যক্রম শুরু করে।

বিএসটিআই জানায়, গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং ল্যাবরেটরি ডেটা ইএসডিওর কাছে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় ও আমদানিকৃত টুথপেস্টের কাঁচামাল, উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, কেবল কোনো নমুনায় প্লাস্টিকজাতীয় কণা পাওয়া গেলেই সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ করা হয়েছে বা পণ্যটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এজন্য কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশে BDS 1216:2012 মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। এই মানদণ্ডে অনুমোদিত উপাদানের তালিকা রয়েছে, তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।

এদিকে, বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক আদেশে হাইকোর্ট সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে তদন্ত করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি উদীয়মান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ইস্যু। তবে মানুষের স্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তাই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে নিরাপত্তা ঝুঁকি: ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিএসটিআইয়ের পদক্ষেপ: নমুনা পরীক্ষা শুরু, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা

Update Time : ০৭:২০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার দাবি সামনে আসার পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় জাতীয় মান লঙ্ঘন বা অনুমোদনবিহীন উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএসডিও (ESDO) একটি গবেষণায় দাবি করে, তারা পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। গবেষণাটি প্রকাশের পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে বিএসটিআই নিজস্ব যাচাই কার্যক্রম শুরু করে।

বিএসটিআই জানায়, গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং ল্যাবরেটরি ডেটা ইএসডিওর কাছে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় ও আমদানিকৃত টুথপেস্টের কাঁচামাল, উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, কেবল কোনো নমুনায় প্লাস্টিকজাতীয় কণা পাওয়া গেলেই সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ করা হয়েছে বা পণ্যটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এজন্য কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশে BDS 1216:2012 মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। এই মানদণ্ডে অনুমোদিত উপাদানের তালিকা রয়েছে, তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।

এদিকে, বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক আদেশে হাইকোর্ট সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে তদন্ত করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি উদীয়মান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ইস্যু। তবে মানুষের স্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তাই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।