ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে নিহত ২ ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৪০ কাপ্তান বাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থের পরিমাণ তিনগুণ দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ডিএমএফ কোর্স চলছে, নিয়োগে অনিশ্চয়তা: SACMO পদ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ কতদূর? শার্শায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ‘শিবিরের কর্মীরা মেধাবী ও উত্তম চরিত্রের’–এমপি আজীজুর রহমান খুচরা সার বিক্রির অভিযোগে কুড়িগ্রামে ডিলারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ জানুয়ারি

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিএসটিআইয়ের পদক্ষেপ: নমুনা পরীক্ষা শুরু, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার দাবি সামনে আসার পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় জাতীয় মান লঙ্ঘন বা অনুমোদনবিহীন উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএসডিও (ESDO) একটি গবেষণায় দাবি করে, তারা পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। গবেষণাটি প্রকাশের পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে বিএসটিআই নিজস্ব যাচাই কার্যক্রম শুরু করে।

বিএসটিআই জানায়, গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং ল্যাবরেটরি ডেটা ইএসডিওর কাছে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় ও আমদানিকৃত টুথপেস্টের কাঁচামাল, উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, কেবল কোনো নমুনায় প্লাস্টিকজাতীয় কণা পাওয়া গেলেই সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ করা হয়েছে বা পণ্যটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এজন্য কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশে BDS 1216:2012 মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। এই মানদণ্ডে অনুমোদিত উপাদানের তালিকা রয়েছে, তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।

এদিকে, বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক আদেশে হাইকোর্ট সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে তদন্ত করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি উদীয়মান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ইস্যু। তবে মানুষের স্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তাই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে নিহত ২

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিএসটিআইয়ের পদক্ষেপ: নমুনা পরীক্ষা শুরু, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা

Update Time : ০৭:২০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার দাবি সামনে আসার পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় জাতীয় মান লঙ্ঘন বা অনুমোদনবিহীন উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএসডিও (ESDO) একটি গবেষণায় দাবি করে, তারা পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। গবেষণাটি প্রকাশের পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে বিএসটিআই নিজস্ব যাচাই কার্যক্রম শুরু করে।

বিএসটিআই জানায়, গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং ল্যাবরেটরি ডেটা ইএসডিওর কাছে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় ও আমদানিকৃত টুথপেস্টের কাঁচামাল, উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, কেবল কোনো নমুনায় প্লাস্টিকজাতীয় কণা পাওয়া গেলেই সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ করা হয়েছে বা পণ্যটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এজন্য কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশে BDS 1216:2012 মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। এই মানদণ্ডে অনুমোদিত উপাদানের তালিকা রয়েছে, তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।

এদিকে, বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক আদেশে হাইকোর্ট সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে তদন্ত করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি উদীয়মান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ইস্যু। তবে মানুষের স্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তাই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।