ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
নাগেশ্বরীতে আ.লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাদের সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ দুর্গাপূজায় টানা ৮ দিন বন্ধ বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব খাগড়াছড়ির কৃষি ও হস্তশিল্পপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ইপিবির মতবিনিময় সভা সোমবার ইসি সভায় চূড়ান্ত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, হ্যাটট্রিক জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে যুবারা রমনায় শুরু ৩৬তম বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুর জুনিয়র জে-৩০, কাল চার ফাইনাল ফের নাকচ এমপি গাজী নজরুলের জামিন আবেদন শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও প্লাটিনাম জব্দ দুর্গাপূজায় ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলওয়ে, ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে মৃত ৩৯, ক্ষতিগ্রস্ত ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। এছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও বন্যা ও পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক। এছাড়া ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, মিরসরাই, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও স্থানীয় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজারেও বন্যার প্রভাব ব্যাপক। চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় নিরাপদ পানীয় পানি, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য নলকূপ, ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাব জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় নৌযান ব্যবহার করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

নাগেশ্বরীতে আ.লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাদের সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে মৃত ৩৯, ক্ষতিগ্রস্ত ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ

Update Time : ০৮:৩৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। এছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও বন্যা ও পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক। এছাড়া ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, মিরসরাই, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও স্থানীয় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজারেও বন্যার প্রভাব ব্যাপক। চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় নিরাপদ পানীয় পানি, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য নলকূপ, ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাব জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় নৌযান ব্যবহার করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।