ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মাদক ছাড়ো, নয়তো শংকরদী ছাড়ো: সচেতনতার বার্তায় সোচ্চার স্থানীয়রা চলচ্চিত্র নীতিমালা, শিল্পী সমিতি ও নতুন প্রযোজনা—বিনোদন অঙ্গনে ব্যস্ত দিন চা খাওয়ার সব উপকারিতা: কেন প্রতিদিনের পানীয় হিসেবে চা এত জনপ্রিয়? প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস: হৃদ্‌স্বাস্থ্য থেকে মানসিক সুস্থতা—যা বলছে গবেষণা টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত বান্দরবান: বন্ধ পর্যটনকেন্দ্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের দাবি প্রেসক্লাব যশোর নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি’র মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা আগামী ২৪–৭২ ঘণ্টায় ১২ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় চাপা পড়ল বাংলাদেশের হতাশার হার বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়

মাদক ছাড়ো, নয়তো শংকরদী ছাড়ো: সচেতনতার বার্তায় সোচ্চার স্থানীয়রা

“মাদক ছাড়ো, নয়তো শংকরদী ছাড়ো”— এমন স্লোগানকে সামনে রেখে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন শংকরদী এলাকায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতা জোরদারের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাদকের বিস্তার শুধু ব্যক্তির জীবনই নয়, পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও এলাকার সামগ্রিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এলাকার প্রবাসীরা বলেন, মাদক বর্তমান সমাজের একটি মরণব্যাধি। পরিবার এবং সমাজের সকল মানুষকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে আমরা যুব সমাজ সব সময় সচেষ্ট থাকবো।
এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, আপনারা এলাকার প্রতিটি মোড়ে, মুদি দোকানসহ সর্ব জায়গায় নজর রাখবেন। মাদকদ্রব্য উৎখাত করতে প্রসাশনের সহযোগিতা নিবেন। নিজের পরিবারের সদস্যদের খেয়াল রাখবেন, তারা কোথায় যায়, কি করে, কিভাবে তাদের অবসর সময় কাটায়!? আপনার পরিবারের প্রতি আপনার অবহেলা হতে পারে আপনার পরিবার ধ্বংসের কারণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্তির কারণে অনেক তরুণ পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে, পারিবারিক অশান্তি বাড়ছে এবং ছোটখাটো অপরাধের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি একটি জটিল স্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা। এর প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণা ও সরকারি কর্মসূচিতে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ মাদকের চাহিদা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুবসমাজ ও স্থানীয় সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুস্থ জীবনধারায় উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী প্রচার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শংকরদীকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতামূলক সভা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, “মাদক নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধই হোক তরুণদের পথচলার শক্তি।” তাদের প্রত্যাশা, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে শংকরদী একদিন সত্যিকার অর্থেই মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ছাড়ো, নয়তো শংকরদী ছাড়ো: সচেতনতার বার্তায় সোচ্চার স্থানীয়রা

মাদক ছাড়ো, নয়তো শংকরদী ছাড়ো: সচেতনতার বার্তায় সোচ্চার স্থানীয়রা

Update Time : ০১:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

“মাদক ছাড়ো, নয়তো শংকরদী ছাড়ো”— এমন স্লোগানকে সামনে রেখে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন শংকরদী এলাকায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতা জোরদারের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাদকের বিস্তার শুধু ব্যক্তির জীবনই নয়, পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও এলাকার সামগ্রিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এলাকার প্রবাসীরা বলেন, মাদক বর্তমান সমাজের একটি মরণব্যাধি। পরিবার এবং সমাজের সকল মানুষকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে আমরা যুব সমাজ সব সময় সচেষ্ট থাকবো।
এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, আপনারা এলাকার প্রতিটি মোড়ে, মুদি দোকানসহ সর্ব জায়গায় নজর রাখবেন। মাদকদ্রব্য উৎখাত করতে প্রসাশনের সহযোগিতা নিবেন। নিজের পরিবারের সদস্যদের খেয়াল রাখবেন, তারা কোথায় যায়, কি করে, কিভাবে তাদের অবসর সময় কাটায়!? আপনার পরিবারের প্রতি আপনার অবহেলা হতে পারে আপনার পরিবার ধ্বংসের কারণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্তির কারণে অনেক তরুণ পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে, পারিবারিক অশান্তি বাড়ছে এবং ছোটখাটো অপরাধের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি একটি জটিল স্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা। এর প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণা ও সরকারি কর্মসূচিতে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ মাদকের চাহিদা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুবসমাজ ও স্থানীয় সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুস্থ জীবনধারায় উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী প্রচার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শংকরদীকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতামূলক সভা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, “মাদক নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধই হোক তরুণদের পথচলার শক্তি।” তাদের প্রত্যাশা, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে শংকরদী একদিন সত্যিকার অর্থেই মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত হবে।