ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
খেলায় খেলায় শেখার ওপর গুরুত্ব, প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে নতুন উদ্যোগ উল্লাপাড়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২ বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাণিজ্য বাধা দূর করার তাগিদ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হলো এআইভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চীনে পাঠানোর প্রলোভনে ভারতে গিয়ে ৪ বছর কারাভোগ, দেশে ফিরলেন জামালপুরের সিরাজুল বেনাপোলে হেরোইনের মামলায়  মাদক ব্যবসায়ী মহাসিনের যাবজ্জীবন কারাগার আর শুধু বন্দিশালা নয়, হচ্ছে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ রাজস্ব ব্যবস্থায় আস্থা ফেরানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা ও উপবৃত্তির আবেদনের সময় বাড়ল এডিআরের মাধ্যমে লিগ্যাল এইডে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ উপকৃত

খেলায় খেলায় শেখার ওপর গুরুত্ব, প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে নতুন উদ্যোগ

  • নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ Time View

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দঘন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের জন্য কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। খেলাধুলা ও আনন্দময় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিশুদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের বিকাশ ঘটবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় স্থানীয় খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোকেও শিশুবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে নেপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন খেলা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে কীভাবে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

চীন ও জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ দুটিতে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শ্রেণির নির্দিষ্ট বিষয় বা অধ্যায় শেখাতে কোন ধরনের খেলা বা খেলনা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই আলোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করলেই হবে না, তার যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, শিক্ষার পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিশুদের জন্য আনন্দময়, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলায় খেলায় শেখার ওপর গুরুত্ব, প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে নতুন উদ্যোগ

খেলায় খেলায় শেখার ওপর গুরুত্ব, প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে নতুন উদ্যোগ

Update Time : ০৬:১৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দঘন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের জন্য কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। খেলাধুলা ও আনন্দময় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিশুদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের বিকাশ ঘটবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় স্থানীয় খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোকেও শিশুবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে নেপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন খেলা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে কীভাবে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

চীন ও জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ দুটিতে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শ্রেণির নির্দিষ্ট বিষয় বা অধ্যায় শেখাতে কোন ধরনের খেলা বা খেলনা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই আলোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করলেই হবে না, তার যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, শিক্ষার পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিশুদের জন্য আনন্দময়, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।