ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
আজ প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল, যেভাবে জানা যাবে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, মন্ত্রীর শোক রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান সফল করতে ছয় কমিটি গঠন জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি নয়, উন্নয়নের পথে বাধা রুখে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সাতক্ষীরার সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় মোবাইল যন্ত্রাংশ ও ওষুধ জব্দ বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় অন-অ্যারাইভাল ভিসা চায় ঢাকা যশোরে ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল দম্পতির বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক শিক্ষার সংস্কারে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী বরিশালের নদী-গ্রাম আর মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ অভিবাসনে যৌথভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ

দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

পাশাপাশি শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

 

আজ তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

 

এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহায়তা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

মন্ত্রী এফসিডিও (এফসিডিও), আইএলও (আইএলও) ও বিশ্বব্যাংকের (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) অংশীদারিত্বে চলমান ‘রাইজ’ (রাইজ) প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

এছাড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে।

 

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হলে তা তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত করবে।

 

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

তিনি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ তুলে ধরেন এবং অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান। একইসঙ্গে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন) বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার কথা জানান তিনি।

 

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে দেশটির সরকার ও জনগণ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

 

তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্প সংখ্যক আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

 

সারাহ কুক আরও জানান, আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড (থ্রি থাউজ্যান্ড পাউন্ড) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিপোর্ট করা হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

 

সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স (জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স) বিষয়ক কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল, যেভাবে জানা যাবে

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ অভিবাসনে যৌথভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ

Update Time : ০৯:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

পাশাপাশি শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

 

আজ তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

 

এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহায়তা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

মন্ত্রী এফসিডিও (এফসিডিও), আইএলও (আইএলও) ও বিশ্বব্যাংকের (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) অংশীদারিত্বে চলমান ‘রাইজ’ (রাইজ) প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

এছাড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে।

 

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হলে তা তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত করবে।

 

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

তিনি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ তুলে ধরেন এবং অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান। একইসঙ্গে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন) বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার কথা জানান তিনি।

 

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে দেশটির সরকার ও জনগণ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

 

তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্প সংখ্যক আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

 

সারাহ কুক আরও জানান, আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড (থ্রি থাউজ্যান্ড পাউন্ড) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিপোর্ট করা হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

 

সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স (জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স) বিষয়ক কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।