কয়েক মাস সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের পর থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরের কাছে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। বুধবার জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি।
পাত্তায়ার কাছের এই বন্দরে জাহাজটি অবস্থানকালে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্য থাইল্যান্ডে নামার সুযোগ পাবেন। গত বছরের নভেম্বরের পর এটিই তাদের প্রথম বড় ধরনের স্থলযাত্রা।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য যাত্রা শুরু করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। শুরুতে দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য মোতায়েন করা হলেও পরে এর গন্তব্য পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা শুরুর কয়েক মাস আগেই এই পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে রণতরিটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও নাবিকদের জীবনযাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া এবং সদস্যদের মানসিক চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। কয়েকজন সদস্যের আত্মহত্যার চেষ্টার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।
এসব ঘটনা ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের স্বাগত জানাতে পর্যটননগরী পাত্তায়ায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই মার্কিন সেনাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের অন্যতম পরিচিত গন্তব্য হিসেবে পাত্তায়ার পরিচিতি রয়েছে।
সমুদ্রসৈকত, বিনোদন ও রাতের জীবনযাপনের জন্য জনপ্রিয় হলেও যৌন পর্যটনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছে শহরটি। পাত্তায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন, সম্প্রতি যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে—এমন অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মার্কিন সামরিক সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে শহরের একটি বারের বাইরেও বিশেষ বার্তা টানানো হয়েছে।
জাহাজটি রোববার থাইল্যান্ড ছাড়ার আগ পর্যন্ত নাবিক ও মেরিনদের বন্দরের সঙ্গে পাত্তায়া শহরের মধ্যে যাতায়াতের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেয়রের ভাষ্য, তারা মূলত বিশ্রাম ও অবসর কাটাতেই শহরে এসেছেন।
মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকানো হবে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
তবে থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে মার্কিন নাবিক ও মেরিনদের কিছু কার্যক্রমে বিধিনিষেধ থাকবে। তাদের জেটস্কিসহ কিছু জলক্রীড়া থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির তুলনামূলক শিথিল গাঁজা-সংক্রান্ত আইনকে কেন্দ্র করে গাঁজা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক করা হয়েছে।
এর বাইরে শপিংমল, ধর্মীয় স্থাপনা ও অন্যান্য পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার জন্য তাদের উৎসাহিত করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
















