ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, নিহত ৩ সেনা দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ২য় জাতীয় জুডো কাতা প্রতিযোগিতায় বিজিবি চ্যাম্পিয়ন অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরু, তাইপেকে ৭-০ গোলে হারাল ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনে পাঁচ দেশের সম্মতি ফেনী সীমান্তে অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ রাজশাহীতে আব্দুল করিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি ফরিদপুরে গ্রেপ্তার গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানোর পরিকল্পনা, আরব-মুসলিম দেশগুলোকে হামাসের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান পশ্চিম তীরের ৩ শরণার্থী শিবির খালি করানোয় মানবতাবিরোধী অপরাধের শঙ্কা জাতিসংঘের আইআরজিসির সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগের অভিযোগে তুরস্কের ব্যাংকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানোর পরিকল্পনা, আরব-মুসলিম দেশগুলোকে হামাসের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

 

শুক্রবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরাইলি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ করে তুলেছে।

 

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা প্রতিহত করতে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর, কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

এর আগে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনার কথা জানান। তার প্রস্তাবে প্রথম বছরে আড়াই লাখ মানুষকে গাজা ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী কয়েক বছরে আরও বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

 

এর এক দিন আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছিলেন, স্থল ও সমুদ্রপথে গাজাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরাইল প্রস্তুত। তবে তাদের কোথায় পাঠানো হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

 

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে দখলকৃত ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক অন্যত্র স্থানান্তর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জেনেভা কনভেনশনের বিধানেও এ ধরনের জোরপূর্বক স্থানান্তর নিষিদ্ধ।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর গাজার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বারবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্য এলাকায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। ওই হামলায় অধিকাংশ নিহতই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। এরপর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও সংঘাতের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

 

এদিকে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার ধারণাটি এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছিল। তিনি গাজাকে পুনর্গঠন করে একটি বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তবে মিসরসহ আরব দেশগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে এ নিয়ে তার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

 

গাজার সীমান্তবর্তী দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের পাশাপাশি মিসরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে গাজাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনায় মিসরের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, নিহত ৩ সেনা

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানোর পরিকল্পনা, আরব-মুসলিম দেশগুলোকে হামাসের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

Update Time : ০৬:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

 

শুক্রবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরাইলি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ করে তুলেছে।

 

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা প্রতিহত করতে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর, কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

এর আগে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনার কথা জানান। তার প্রস্তাবে প্রথম বছরে আড়াই লাখ মানুষকে গাজা ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী কয়েক বছরে আরও বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

 

এর এক দিন আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছিলেন, স্থল ও সমুদ্রপথে গাজাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরাইল প্রস্তুত। তবে তাদের কোথায় পাঠানো হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

 

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে দখলকৃত ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক অন্যত্র স্থানান্তর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জেনেভা কনভেনশনের বিধানেও এ ধরনের জোরপূর্বক স্থানান্তর নিষিদ্ধ।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর গাজার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বারবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্য এলাকায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। ওই হামলায় অধিকাংশ নিহতই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। এরপর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও সংঘাতের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

 

এদিকে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার ধারণাটি এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছিল। তিনি গাজাকে পুনর্গঠন করে একটি বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তবে মিসরসহ আরব দেশগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে এ নিয়ে তার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

 

গাজার সীমান্তবর্তী দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের পাশাপাশি মিসরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে গাজাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনায় মিসরের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।