গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরাইলি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ করে তুলেছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা প্রতিহত করতে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর, কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এর আগে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনার কথা জানান। তার প্রস্তাবে প্রথম বছরে আড়াই লাখ মানুষকে গাজা ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী কয়েক বছরে আরও বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এর এক দিন আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছিলেন, স্থল ও সমুদ্রপথে গাজাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরাইল প্রস্তুত। তবে তাদের কোথায় পাঠানো হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে দখলকৃত ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক অন্যত্র স্থানান্তর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জেনেভা কনভেনশনের বিধানেও এ ধরনের জোরপূর্বক স্থানান্তর নিষিদ্ধ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর গাজার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বারবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্য এলাকায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। ওই হামলায় অধিকাংশ নিহতই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। এরপর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও সংঘাতের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
এদিকে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার ধারণাটি এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছিল। তিনি গাজাকে পুনর্গঠন করে একটি বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তবে মিসরসহ আরব দেশগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে এ নিয়ে তার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গাজার সীমান্তবর্তী দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের পাশাপাশি মিসরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে গাজাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনায় মিসরের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















