কলম্বিয়ার কাতাতুম্বো অঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার কাতাতুম্বো এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় অন্তত ২০টি বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়। হামলার জন্য ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)-এর বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে হামলায় দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ায়।
কাতাতুম্বো অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা ইএলএনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, কোনো পুলিশ বা সেনাসদস্যকে হত্যা করা হলে রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে আরও শক্তভাবে ব্যবস্থা নেবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোর্হে মোরা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ইএলএনের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।
কোকেন উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ কলম্বিয়া বর্তমানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
এরই মধ্যে কলম্বিয়া যুক্ত হয়েছে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ নামের একটি আঞ্চলিক মাদকবিরোধী উদ্যোগে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন এ জোটে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর ও এল সালভাদরও রয়েছে।
আগামী সপ্তাহে ক্যারিবীয় উপকূলের শহর বারানকিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলার।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















