যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত সীমিতসংখ্যক অভিবাসীকে সাময়িকভাবে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা। শনিবার দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতার কথা জানিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে কিছু অভিবাসীকে ‘তৃতীয় কোনো দেশে’ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গায়ানা জানিয়েছে, যেসব বহিষ্কৃত অভিবাসীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের মধ্য থেকে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তিকে দেশটি গ্রহণ করবে।
গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই উদ্যোগকে মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশটির দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থায়ী পুনর্বাসন নয়
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই ব্যবস্থাটি স্থায়ী কোনো পুনর্বাসন কর্মসূচি নয় বলে স্পষ্ট করেছে গায়ানা। দেশটির সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং এর মাধ্যমে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গায়ানায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে না।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় গায়ানায় স্থানান্তর করা হবে। সেখানে অবস্থান করেই তারা নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করবেন।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান তাদের মামলার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন অথবা নিজেদের পছন্দের অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অন্য দেশও সহযোগিতায়
যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার কার্যক্রমে মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ সহযোগিতায় সম্মতি দিয়েছে। এরই মধ্যে ২৫০ জন ভেনেজুয়েলানকে এল সালভাদরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারাগার সেকোটেতে পাঠানো হয়েছে।
গায়ানার সঙ্গে নতুন এই সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার নীতির আওতায় তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের সাময়িকভাবে স্থানান্তরের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















