বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি সামাজিক সংকট বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক বা সামাজিক সমস্যার কারণে অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে মনে করে দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু বাস্তবে বাল্যবিবাহ নতুন ও আরও জটিল সংকট তৈরি করে। দারিদ্র্যকে কোনোভাবেই শিশুর শিক্ষাজীবন বন্ধ করে দেওয়ার কারণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, কন্যাশিশুকে যথাযথ সুরক্ষা, শিক্ষা ও মর্যাদা দিয়ে বড় করা হলে ভবিষ্যতে সে পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মেয়েদের বোঝা হিসেবে না দেখে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিবর্তিত বাংলাদেশে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলও মেয়েদের অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সরকার এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে মেয়েরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।
নারীশিক্ষার প্রসারে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মেয়েদের শিক্ষায় বিনামূল্যে সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মায়েদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে প্রাথমিক পর্যায়ে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও উপবৃত্তির মতো বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে জাল কাগজপত্র ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি ডিরেক্টর নীলিমা ইয়াসমিনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সংস্থা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















