ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্প সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অস্থায়ী দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আগামীকাল মিনি স্কুল হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঢাকায় টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,১৬৬ নেত্রকোণায় ভারতীয় ২১ বস্তা জিরাসহ ১ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাসে র‌্যাবের অভিযানে মাদক ‘ক্রিস্টাল আইস’ উদ্ধার চট্টগ্রামের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক নসিমন চালক নিহত, আহত ৩ সারাদেশে হামে আরো ৪ জনের মৃত্যু তৃতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে এক যুবক আটক

বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্প সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

oplus_2

বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাক্সিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (ACCESS)- বাংলাদেশ (BLPA কম্পোনেন্ট) প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ৩ মে ২০২৬, রবিবার বিতাল ৩টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,​মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক। সভাপতিত্ব করেন, মোহাম্মদ শামীম হোসেন, উপ-সচিব ও পরিচালক (ট্রাফিক), বেনাপোল স্থলবন্দর।
​দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবহন ও বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভাকার্যের সভাপতি ও বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো.শামীম হোসেন সভায় দাবি উত্থাপণ করে বলেন,বেনাপোল স্থলবন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, কার্যপরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুবিধার্থে প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব একটি আবহ তৈরি হয়।
*শ্রমিকদের জন্য খাবার ও বিশ্রামের সুব্যবস্থা নেই। তাই তাদের জন্য ক্যান্টিন বা রেস্টুরেন্ট সুবিধাসহ অন্তত একতলা একটি ভবন নির্মাণের অনুরোধ করা হয়।
​*প্রকল্পের কাজের ফলে যেন পরিবেশের ক্ষতি বা অনিয়ম না হয় এবং অবৈধ প্রবেশ বা মাদকের প্রভাব রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
*বন্দরের কার্যক্রমে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ২০১৬ সালে যেখানে ২১৬ জন জনবল ছিল, সেখানে বর্তমানে মাত্র ১৪২ জন কর্মী কর্মরত আছেন। এ ঘাটতি পূরণে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
​এই সুপারিশগুলো বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে এবং প্রকল্পের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পরিচালক মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি মো.আব্দুর রাজ্জাক বক্তাগণের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বন্দর উন্নয়ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রদত্ত বক্তব্যের রুপরেখা তুলে ধরা হলো-
* নীতিমালা ও জমির মূল্য সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন করে এর মেয়াদ এক বছর থেকে তিন বছর করা হয়েছে।
​*রাস্তার পাশের জমি এবং ভেতরের জমির মূল্যের মধ্যে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত পার্থক্য বিদ্যমান। তবে নীতিমালায় এগুলোর মূল্যায়ন কাছাকাছি রাখা হয়েছে (বিষয়টি বর্তমানে সরাসরি দৃশ্যমান না হলেও, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনার দাবি রাখে)।
প্রকল্পের অগ্রগতি ​বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর/২০২৫ এবং জানুয়ারি/২০২৬ মাসে প্রকল্প পরিচালকের (Project Director) পরিবর্তনের কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হয়েছিল। নতুন নিযুক্ত টিম অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা কনসালটেন্ট ফার্ম ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। প্রকল্পের কাজের প্রতি বাড়তি মনোযোগ এবং দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অংশীজনদের (Stakeholders) সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার ও প্রতিনিধিদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন-মো.রুহুল আমিন(উপ-পরিচালক,বেনাপোল বন্দর),আরতি গোস্বামী(সহকারী কাষ্টমস কমিশনার,বেনাপোল),মোহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম(সহকারী কমিশনার,ভূমি,শার্শা),শাহিদ হাসান(রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট এন্ড ডাটা এডিটিং অফিসার)।
এ ছাড়াও জমির মালিকগণ,বন্দর ব্যবহারকারী অংশীজনেরা,বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের
নেতৃবৃন্দ,বিজিবি,পুলিশ,আনসার,গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা এবং বন্দর ও কাস্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্প সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্প সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

Update Time : ১১:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাক্সিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (ACCESS)- বাংলাদেশ (BLPA কম্পোনেন্ট) প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ৩ মে ২০২৬, রবিবার বিতাল ৩টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,​মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক। সভাপতিত্ব করেন, মোহাম্মদ শামীম হোসেন, উপ-সচিব ও পরিচালক (ট্রাফিক), বেনাপোল স্থলবন্দর।
​দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবহন ও বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভাকার্যের সভাপতি ও বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো.শামীম হোসেন সভায় দাবি উত্থাপণ করে বলেন,বেনাপোল স্থলবন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, কার্যপরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুবিধার্থে প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব একটি আবহ তৈরি হয়।
*শ্রমিকদের জন্য খাবার ও বিশ্রামের সুব্যবস্থা নেই। তাই তাদের জন্য ক্যান্টিন বা রেস্টুরেন্ট সুবিধাসহ অন্তত একতলা একটি ভবন নির্মাণের অনুরোধ করা হয়।
​*প্রকল্পের কাজের ফলে যেন পরিবেশের ক্ষতি বা অনিয়ম না হয় এবং অবৈধ প্রবেশ বা মাদকের প্রভাব রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
*বন্দরের কার্যক্রমে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ২০১৬ সালে যেখানে ২১৬ জন জনবল ছিল, সেখানে বর্তমানে মাত্র ১৪২ জন কর্মী কর্মরত আছেন। এ ঘাটতি পূরণে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
​এই সুপারিশগুলো বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে এবং প্রকল্পের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পরিচালক মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি মো.আব্দুর রাজ্জাক বক্তাগণের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বন্দর উন্নয়ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রদত্ত বক্তব্যের রুপরেখা তুলে ধরা হলো-
* নীতিমালা ও জমির মূল্য সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন করে এর মেয়াদ এক বছর থেকে তিন বছর করা হয়েছে।
​*রাস্তার পাশের জমি এবং ভেতরের জমির মূল্যের মধ্যে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত পার্থক্য বিদ্যমান। তবে নীতিমালায় এগুলোর মূল্যায়ন কাছাকাছি রাখা হয়েছে (বিষয়টি বর্তমানে সরাসরি দৃশ্যমান না হলেও, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনার দাবি রাখে)।
প্রকল্পের অগ্রগতি ​বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর/২০২৫ এবং জানুয়ারি/২০২৬ মাসে প্রকল্প পরিচালকের (Project Director) পরিবর্তনের কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হয়েছিল। নতুন নিযুক্ত টিম অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা কনসালটেন্ট ফার্ম ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। প্রকল্পের কাজের প্রতি বাড়তি মনোযোগ এবং দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অংশীজনদের (Stakeholders) সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার ও প্রতিনিধিদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন-মো.রুহুল আমিন(উপ-পরিচালক,বেনাপোল বন্দর),আরতি গোস্বামী(সহকারী কাষ্টমস কমিশনার,বেনাপোল),মোহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম(সহকারী কমিশনার,ভূমি,শার্শা),শাহিদ হাসান(রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট এন্ড ডাটা এডিটিং অফিসার)।
এ ছাড়াও জমির মালিকগণ,বন্দর ব্যবহারকারী অংশীজনেরা,বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের
নেতৃবৃন্দ,বিজিবি,পুলিশ,আনসার,গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা এবং বন্দর ও কাস্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন