ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক: ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ ঘিরে প্রস্তুতি ব্রাজিলের নির্বাচনের ফল মেনে নিল বলসোনারোর দল, পরাজয় নিয়ে আপত্তি ফ্লাভিওর ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের পরীক্ষা আজ ট্রাভেল পারমিটে দুই বছর বয়সী সন্তানসহ দেশে ফিরলেন দম্পতি চট্টগ্রামে উদ্ধার ১০৭ মোবাইল ফোন, মালিকদের কাছে হস্তান্তর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আলোচনা শুরু মঙ্গলবার, লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি বিয়ে নিয়ে প্রশ্নে বিরক্ত সাফা কবির, জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান? দুই দিনে এক কোটি ভিউ, অপূর্ব-নীহার ‘ভালো আছো তো?’ নাটকের নতুন রেকর্ড টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: ১১তম অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন তথ্য টিআইএন আর প্রয়োজন নেই? যেসব শর্তে বাতিলের আবেদন করা যায়

ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের পরীক্ষা আজ

আঞ্চলিক যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট ও ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরাইলিরা।

আন্তর্জাতিক চাপ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটারদের রায় ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং দেশটির রাজনীতিতে ডানপন্থী শক্তির প্রভাব— এবারের নির্বাচনে এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ও তার বিরোধীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইল একাধিক সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এসব ঘটনার প্রভাব ভোটারদের মনোভাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

নির্বাচনী আলোচনায় একদিকে রয়েছে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন, অন্যদিকে হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় নির্ধারণের দাবি। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

নেতানিয়াহু দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে নিজের সক্ষমতাকে সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ককেও তিনি নিজের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, ৭ অক্টোবরের হামলার পেছনে কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নেতানিয়াহুবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একত্র হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব দলের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকায় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনা সহজ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহু উগ্র ডানপন্থী ও কট্টর জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর ইসরাইলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব দলের প্রভাব বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

সামরিক বাহিনীতে জনবলের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নীতি নিয়ে সরকার সমালোচনার মুখে রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহুকে ধর্মীয় দলগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে গাজায় সামরিক অভিযান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনাও ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থানকে চাপে ফেলেছে।

ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব। প্রধান আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোর মধ্যে ব্যবধান কম হলে।

তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট— কেউই এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের জোটে যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। নির্বাচনে কোনো একক দল এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে— এমন প্রত্যাশা না থাকায় জোট গঠনই হবে পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মূল চ্যালেঞ্জ।

ভোটের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতায় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। জোট গঠনের উদ্যোগ ব্যর্থ হলে আবারও নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন শুধু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং নিরাপত্তা, রাজনৈতিক জবাবদিহি, ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মনোভাব বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

আরও পড়ুন: ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ খবর

সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক: ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ ঘিরে প্রস্তুতি

ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের পরীক্ষা আজ

Update Time : ০৬:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আঞ্চলিক যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট ও ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরাইলিরা।

আন্তর্জাতিক চাপ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটারদের রায় ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং দেশটির রাজনীতিতে ডানপন্থী শক্তির প্রভাব— এবারের নির্বাচনে এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ও তার বিরোধীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইল একাধিক সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এসব ঘটনার প্রভাব ভোটারদের মনোভাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

নির্বাচনী আলোচনায় একদিকে রয়েছে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন, অন্যদিকে হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় নির্ধারণের দাবি। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

নেতানিয়াহু দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে নিজের সক্ষমতাকে সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ককেও তিনি নিজের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, ৭ অক্টোবরের হামলার পেছনে কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নেতানিয়াহুবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একত্র হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব দলের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকায় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনা সহজ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহু উগ্র ডানপন্থী ও কট্টর জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর ইসরাইলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব দলের প্রভাব বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

সামরিক বাহিনীতে জনবলের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নীতি নিয়ে সরকার সমালোচনার মুখে রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহুকে ধর্মীয় দলগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে গাজায় সামরিক অভিযান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনাও ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থানকে চাপে ফেলেছে।

ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব। প্রধান আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোর মধ্যে ব্যবধান কম হলে।

তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট— কেউই এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের জোটে যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। নির্বাচনে কোনো একক দল এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে— এমন প্রত্যাশা না থাকায় জোট গঠনই হবে পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মূল চ্যালেঞ্জ।

ভোটের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতায় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। জোট গঠনের উদ্যোগ ব্যর্থ হলে আবারও নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন শুধু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং নিরাপত্তা, রাজনৈতিক জবাবদিহি, ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মনোভাব বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

আরও পড়ুন: ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ খবর

সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি।