বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রিস্টিনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় অনুবিভাগের সচিব রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম এবং কসোভোর শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনবিষয়ক মন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলার মধ্যে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োটেকনোলজি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়ের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ কসোভোর বাজারে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে কসোভোর বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি কসোভোর বেসরকারি খাতের একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে কসোভো চেম্বার অব কমার্স ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কসোভোতে বাংলাদেশি কোম্পানির উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসে।
কসোভোর মন্ত্রী দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান, অনুকূল রাজস্বনীতি ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারের সুবিধা তুলে ধরেন। তিনি সিইএফটিএ ও ইএফটিএর মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে প্রবেশের সুযোগের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পশ্চিম বলকান অঞ্চলের আঞ্চলিক সংযোগকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষ মনে করে, এ ধরনের চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















