সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় তাদের একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় এডিএনওসির ওই জাহাজে হামলা হয়। ঘটনার পর সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এডিএনওসি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগের দিনও সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় এডিএনওসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে ইরানের হামলা হয়েছে। আবুধাবি ওই ঘটনাকে ‘বৈরী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানায়। সেসব ঘটনায়ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত সপ্তাহে এডিএনওসি জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে তাদের তিনটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। পরদিন আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও একটি এডিএনওসি ট্যাংকারে হামলার কথা জানায়।
হরমুজ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ওমান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আন্তর্জাতিক আইন মেনে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে মত দিয়েছে।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছেন। এসব শর্তের মধ্যে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের দাবি রয়েছে।
ফলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















