প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দঘন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের জন্য কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। খেলাধুলা ও আনন্দময় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিশুদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের বিকাশ ঘটবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় স্থানীয় খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোকেও শিশুবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে নেপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন খেলা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে কীভাবে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
চীন ও জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ দুটিতে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শ্রেণির নির্দিষ্ট বিষয় বা অধ্যায় শেখাতে কোন ধরনের খেলা বা খেলনা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।
বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই আলোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করলেই হবে না, তার যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, শিক্ষার পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শিশুদের জন্য আনন্দময়, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
নিউজ ডেস্ক 


















