চীন-নেপাল সীমান্তের তিব্বত অংশে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার সকালে চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত একাধিক ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জীবিতদের উদ্ধারে সহস্রাধিক উদ্ধারকর্মী, অনুসন্ধানী কুকুর ও ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।
চীনের সীমান্ত এলাকার নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কাদার স্রোত দ্রুত এগিয়ে আসার সময় প্রাণ বাঁচাতে কয়েক ডজন মানুষ দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
চীনের আধাসামরিক বাহিনী পিপলস আর্মড পুলিশের সদস্য লি চিপু রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে জানান, উদ্ধারকাজে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উজানে একটি জলাধারের হ্রদের অস্থিতিশীলতা এবং দুর্গম ও সরু পাহাড়ি সড়ক।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় যানবাহন ও ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম এখনো মূল দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি। তবে আশপাশের সড়কগুলো সচল থাকায় পেছন দিক দিয়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৮০০ উদ্ধারকর্মী ও ১৫০টির বেশি যানবাহন পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৪৩১ সদস্যও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তারা অনুসন্ধানী কুকুর, জীবিত শনাক্তকারী স্ক্যানার ও ছোট নৌকা ব্যবহার করছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে উদ্ধারকর্মীদের কোদাল হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বেসামরিক ও সামরিক উড়োজাহাজও তিব্বতে পৌঁছেছে।
এদিকে, ভারী বৃষ্টির কারণে নতুন করে ভূমিধস ও পাহাড় থেকে পাথর ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান চলার পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার দুর্যোগের ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সূত্র: এএফপি, সিসিটিভি ও সিনহুয়া।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















