অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়কে ‘বিস্ময়কর ফলাফল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় টাইগাররা। যদিও ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ওয়াহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশের এমন সাফল্য টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ভালো খেলতে দেখে তিনি আনন্দিত বলেও জানান।
ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে আটকে দিয়ে ৫৭ রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে ঐতিহাসিক জয় পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বাংলাদেশের এই উন্নতিকে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন ওয়াহ। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভারসাম্য প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের কাছাকাছি করার পক্ষে মত দেন তিনি।
তবে টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান ধারা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ওয়াহর। তার মতে, টি-টোয়েন্টির ব্যাপক জনপ্রিয়তা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ওয়াহ বলেন, টেস্ট ক্রিকেটের মূল সৌন্দর্য হলো কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে লড়াই করা, উইকেটে টিকে থাকা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বড় ইনিংস গড়া। আধুনিক ক্রিকেটে এই মানসিকতা কিছুটা হারিয়ে যাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখতে আলাদা সময় বা ‘উইন্ডো’ রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। তবে টি-টোয়েন্টির ব্যস্ত সূচির মধ্যে টেস্টের জন্য আলাদা সময় বের করা সহজ হবে না বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের ফলাফল তাই একদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সতর্কবার্তা, অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতিরও বড় প্রমাণ হয়ে থাকল।
খেলাধুলা ডেস্ক 


















