যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নেওয়া এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইতালিভিত্তিক অটিস্টিসি/ইনভেনতাতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন মাসার বাদিলকেও একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তিন সংগঠনকে ‘সহিংস চরম বামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বামপন্থী ও অ্যান্টিফা-সংশ্লিষ্ট আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদারের মধ্যেই নতুন এই তালিকা প্রকাশ করল।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন যুক্তরাজ্যে ইসরাইলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সংগঠনটি বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছে। নিষেধাজ্ঞার পর সংগঠনটির সমর্থকদের গ্রেফতারের ঘটনায় অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অটিস্টিসি/ইনভেনতাতিকে একটি ‘চরম বামপন্থী প্রযুক্তি সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সহিংস অ্যান্টিফা গোষ্ঠীগুলো সংগঠনটির প্রযুক্তিগত সেবা ব্যবহার করে।
অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, চরম বামপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহারে ওয়াশিংটন আরও কঠোর হবে। এসব সংগঠনের অর্থের উৎস বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। তার দাবি, গাজায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং ইসরাইলের সামরিক শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করাই সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ইসরাইল অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিছু সংগঠন রাজনৈতিক বা মানবিক উদ্দেশ্যের আড়ালে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এবং তরুণদের উগ্রপন্থায় যুক্ত করার চেষ্টা করে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ভিন্নমত ও প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে দেখার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















