চাঁদপুরে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কসাই নুর মোহাম্মদকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে সুজন সরকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় কসাই ছিলেন। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় জেলে ছিলেন এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের একটি বিলের পাশে খালি জমিতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশ। খবর পেয়ে ইউপি সদস্য পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরদিন ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতলব দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, বড় স্টেশন এলাকায় ব্যবসার সুবাদে নুর মোহাম্মদ ও সুজন সরকারের মধ্যে পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেন ছিল। সেই লেনদেনকে কেন্দ্র করে সুজন নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার এসআই তপন চন্দ্র দাস তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি কোহিনুর রশিদ জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে চলা মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত সুজন সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন।
মামলায় অভিযুক্ত অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাজেস মুখার্জী।
চাঁদপুর প্রতিনিধি 



















