কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে ফেরি চলাচল। নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১৩ আগস্ট থেকে এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, শ্রমিকসহ দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চিলমারী নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় একাধিক পণ্যবাহী ভারী যানবাহন আটকা পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও ভোগান্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ভারী যানবাহন পারাপারের জন্য চলাচল করা ফেরি নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১৩ আগস্ট থেকে বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো খবর না পাওয়ায় চিলমারী নদীবন্দরে আটকা পড়েছে মালবাহী ভারী যানবাহন। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক ও শ্রমিকদের।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) উদ্যোগে চিলমারীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। শুরুতে দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহী ও ভারী যানবাহন পারাপার করা হলেও পরবর্তীতে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘ফেরি কুঞ্জলতা’ নামে ফেরি দুটির চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ‘কদর’ নামের একটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহী ও ভারী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে সেটিও গত ১৩ আগস্ট থেকে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে এ নৌপথে ৫৪১ বার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়েছে। বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় নৌপথটির স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, “রৌমারী ঘাট থেকে প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় চাহিদার তুলনায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকাগুলোতে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আরও দুটি ড্রেজার মেশিন পাঠানোর কথা জানিয়েছিল। কিন্তু এখনো তা পাঠানো হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “কয়েকদিন আগে রৌমারীতে গিয়ে দেখি ঘাট এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত ড্রেজিং কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র পাল জানান, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় খননকাজ চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ফেরি সার্ভিস দ্রুত চালু করে জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।”
স্থানীয়দের দাবি, চিলমারী-রৌমারী নৌপথে বারবার নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি বন্ধের স্থায়ী সমাধানে নিয়মিত ড্রেজিং ও কার্যকর নৌপথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক না হলে পণ্য পরিবহনসহ দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 


















