ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বেনাপোলে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ, তিন মাসে লাগানো হয়েছে ১০ হাজার গাছ বেনাপোল সীমান্তে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার যশোরে ৮ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন; প্রস্তুতি ঘিরে ৫৪ ভোটকেন্দ্রে পরিবর্তন কুড়িগ্রামের মাঝের চরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা ফেনসিডিল মামলায় শার্শার পাকশিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন চার বছরের পথচলার শেষে বিদায়—স্মৃতির পাতায় ৩৯তম ব্যাচ বেনাপোল বন্দর পরিদর্শনে চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, অনিয়ম-দুর্নীতিতে কঠোর বার্তা নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্যে প্রার্থী-এজেন্টের ব্যাংক হিসাব, ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রূপপুর থেকে আগামী মাসেই ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, মাদারীপুরে স্বামী গ্রেপ্তার

নেপালে বন্যার পানিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ, শতাধিক মানুষ উদ্ধারে অভিযান

নেপালে ভয়াবহ বন্যার দুই দিন পরও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনী।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজে দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বন্যার কারণে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রবল স্রোতের মধ্যেও সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ থেকে প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই এলাকায় আরও শতাধিক মানুষ আটকা রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে নেপালের উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। প্রবল পানির স্রোতে সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ত্রিশূলী উপত্যকার একাধিক প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকেরা দ্রুত পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া এক শ্রমিক দেব শ্রেষ্ঠ জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ৪০০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। আরেক শ্রমিক বুদ্ধ তামাং বলেন, বন্যার সময় তিনি একটি সুড়ঙ্গে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর বৃহস্পতিবার তাকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

আরেক শ্রমিক অর্জুন কুমার তামাং জানান, পানির প্রবল স্রোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকল্প এলাকায় ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবারের দুর্যোগের পেছনে হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা রয়েছে। এর ফলে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মিশ্রিত ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যা এবং হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। নেপালের মতো পার্বত্য অঞ্চলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ খাত। চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন—দুই ধরনের একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্পই বন্যার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আটকে পড়া বা নিহত ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোলে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ, তিন মাসে লাগানো হয়েছে ১০ হাজার গাছ

নেপালে বন্যার পানিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ, শতাধিক মানুষ উদ্ধারে অভিযান

Update Time : ০৫:২৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যার দুই দিন পরও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনী।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজে দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বন্যার কারণে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রবল স্রোতের মধ্যেও সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ থেকে প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই এলাকায় আরও শতাধিক মানুষ আটকা রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে নেপালের উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। প্রবল পানির স্রোতে সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ত্রিশূলী উপত্যকার একাধিক প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকেরা দ্রুত পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া এক শ্রমিক দেব শ্রেষ্ঠ জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ৪০০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। আরেক শ্রমিক বুদ্ধ তামাং বলেন, বন্যার সময় তিনি একটি সুড়ঙ্গে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর বৃহস্পতিবার তাকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

আরেক শ্রমিক অর্জুন কুমার তামাং জানান, পানির প্রবল স্রোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকল্প এলাকায় ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবারের দুর্যোগের পেছনে হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা রয়েছে। এর ফলে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মিশ্রিত ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যা এবং হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। নেপালের মতো পার্বত্য অঞ্চলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ খাত। চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন—দুই ধরনের একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্পই বন্যার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আটকে পড়া বা নিহত ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।