মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে আলী আকবর হাওলাদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮, বরিশালের সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্প।
গ্রেপ্তার আলী আকবর হাওলাদার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের ইরান হাওলাদারের ছেলে। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আলী আকবর হাওলাদারের সঙ্গে সুমি আক্তার (২৪)-এর বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, আলী আকবর মাদকাসক্ত হওয়ায় বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
এজাহারে বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সুমি আক্তার তার ভাই সজিব মোল্লাকে ফোন করে জানান, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে আলী আকবর সজিবকে ফোন করে জানান, তার বোন গুরুতর অসুস্থ।
খবর পেয়ে পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সজিব মোল্লা, তার মা রুনা বেগম ও বড় বোন নাজমা বেগম আলী আকবরের বাড়িতে যান। সেখানে তারা সুমি আক্তারকে বসতঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার থুতনির নিচে গভীর ছিলা দাগ এবং গলার ডান পাশে কালো দাগ দেখতে পাওয়ার কথাও এজাহারে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুমি আক্তারের ভাই সজিব মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক)/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মাদারীপুর সদর থানার পাঁচখোলা ইউনিয়নের পাঁচখোলা এলাকা থেকে আলী আকবর হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৮, বরিশাল।
মাদারীপুর প্রতিনিধি 
















