ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চার বছরের পথচলার শেষে বিদায়—স্মৃতির পাতায় ৩৯তম ব্যাচ বেনাপোল বন্দর পরিদর্শনে চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, অনিয়ম-দুর্নীতিতে কঠোর বার্তা নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্যে প্রার্থী-এজেন্টের ব্যাংক হিসাব, ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রূপপুর থেকে আগামী মাসেই ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, মাদারীপুরে স্বামী গ্রেপ্তার চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, উচ্চতর প্রশিক্ষণে জোর রাজৈরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে অনলাইন স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির ২ দিনের রিমান্ড ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, মাদারীপুরে স্বামী গ্রেপ্তার

মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে আলী আকবর হাওলাদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮, বরিশালের সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্প।

গ্রেপ্তার আলী আকবর হাওলাদার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের ইরান হাওলাদারের ছেলে। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আলী আকবর হাওলাদারের সঙ্গে সুমি আক্তার (২৪)-এর বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, আলী আকবর মাদকাসক্ত হওয়ায় বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

এজাহারে বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সুমি আক্তার তার ভাই সজিব মোল্লাকে ফোন করে জানান, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে আলী আকবর সজিবকে ফোন করে জানান, তার বোন গুরুতর অসুস্থ।

খবর পেয়ে পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সজিব মোল্লা, তার মা রুনা বেগম ও বড় বোন নাজমা বেগম আলী আকবরের বাড়িতে যান। সেখানে তারা সুমি আক্তারকে বসতঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার থুতনির নিচে গভীর ছিলা দাগ এবং গলার ডান পাশে কালো দাগ দেখতে পাওয়ার কথাও এজাহারে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় সুমি আক্তারের ভাই সজিব মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক)/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মাদারীপুর সদর থানার পাঁচখোলা ইউনিয়নের পাঁচখোলা এলাকা থেকে আলী আকবর হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৮, বরিশাল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চার বছরের পথচলার শেষে বিদায়—স্মৃতির পাতায় ৩৯তম ব্যাচ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, মাদারীপুরে স্বামী গ্রেপ্তার

Update Time : ০২:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে আলী আকবর হাওলাদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮, বরিশালের সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্প।

গ্রেপ্তার আলী আকবর হাওলাদার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের ইরান হাওলাদারের ছেলে। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আলী আকবর হাওলাদারের সঙ্গে সুমি আক্তার (২৪)-এর বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, আলী আকবর মাদকাসক্ত হওয়ায় বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

এজাহারে বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সুমি আক্তার তার ভাই সজিব মোল্লাকে ফোন করে জানান, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে আলী আকবর সজিবকে ফোন করে জানান, তার বোন গুরুতর অসুস্থ।

খবর পেয়ে পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সজিব মোল্লা, তার মা রুনা বেগম ও বড় বোন নাজমা বেগম আলী আকবরের বাড়িতে যান। সেখানে তারা সুমি আক্তারকে বসতঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার থুতনির নিচে গভীর ছিলা দাগ এবং গলার ডান পাশে কালো দাগ দেখতে পাওয়ার কথাও এজাহারে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় সুমি আক্তারের ভাই সজিব মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক)/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মাদারীপুর সদর থানার পাঁচখোলা ইউনিয়নের পাঁচখোলা এলাকা থেকে আলী আকবর হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৮, বরিশাল।