ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তা দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যান সালমান শাহ। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। দীর্ঘদিন পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন, ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, মৃত্যুর দিন সালমান শাহের পরিবারের সদস্যরা তার বাসায় গিয়ে তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুকে শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সালমান শাহের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে আবেদন করে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছেন আদালত। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় কি না, তার ওপর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ভর করবে।
বিনোদন ডেস্ক 


















