ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ পটুয়াখালীতে নকল বিদেশি সিগারেটসহ নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ নেপালে বন্যায় টানেলে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বাধা, বাড়ছে উৎকণ্ঠা আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন মো. হাবিবুল গনি তিব্বতে পাহাড়ি ঢল-ভূমিধসে নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬ ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন সুযোগ: সংশয়ের পাশাপাশি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল বরখাস্ত, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল বাগেরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

তিব্বতে পাহাড়ি ঢল-ভূমিধসে নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ৫৪৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে পানির প্রবল স্রোত ও কাদার ঢল নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়া এই স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং বেশ কয়েকটি বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চীনা ও নেপালি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের বিভিন্ন ঘটনায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ৬৯১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী চীনা অংশে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ১৬ হয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন নাগরিক রয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে চীনা কর্তৃপক্ষ অবহিত করেছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় একাধিক দফায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান যাচাইয়ের পর চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত গিরং কাউন্টিতে কোনো বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েননি।

হিমবাহ ধস থেকেই দুর্যোগের সূত্রপাত

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পেছনে হিমবাহ ধসের ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট নেপালের লিরুং পর্বতের দক্ষিণ ঢালে হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে।

এর ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচের দিকে ধসে পড়ে। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে পানির প্রবল স্রোত যুক্ত হয়ে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।

দুর্যোগের পর দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

তিব্বতে পাহাড়ি ঢল-ভূমিধসে নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬

Update Time : ১১:২৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ৫৪৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে পানির প্রবল স্রোত ও কাদার ঢল নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়া এই স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং বেশ কয়েকটি বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চীনা ও নেপালি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের বিভিন্ন ঘটনায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ৬৯১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী চীনা অংশে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ১৬ হয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন নাগরিক রয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে চীনা কর্তৃপক্ষ অবহিত করেছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় একাধিক দফায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান যাচাইয়ের পর চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত গিরং কাউন্টিতে কোনো বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েননি।

হিমবাহ ধস থেকেই দুর্যোগের সূত্রপাত

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পেছনে হিমবাহ ধসের ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট নেপালের লিরুং পর্বতের দক্ষিণ ঢালে হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে।

এর ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচের দিকে ধসে পড়ে। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে পানির প্রবল স্রোত যুক্ত হয়ে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।

দুর্যোগের পর দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে।