ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
নিরাপত্তা আধুনিকায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫ প্রকল্প, ব্যয় হাজার কোটি টাকা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা বেনাপোল স্থলবন্দরে ফর্কলিফট দুর্ঘটনায় শ্রমিক আহত যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ পটুয়াখালীতে নকল বিদেশি সিগারেটসহ নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ নেপালে বন্যায় টানেলে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বাধা, বাড়ছে উৎকণ্ঠা আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন মো. হাবিবুল গনি তিব্বতে পাহাড়ি ঢল-ভূমিধসে নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬ ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন সুযোগ: সংশয়ের পাশাপাশি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

নিরাপত্তা আধুনিকায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫ প্রকল্প, ব্যয় হাজার কোটি টাকা

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং জরুরি সেবার কার্যকারিতা বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, কারা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইং-১-এর প্রকল্প-তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলমান উদ্যোগগুলোতে একদিকে যেমন থানা, পুলিশ স্থাপনা, সীমান্ত ফাঁড়ি, কারাগার ও ফায়ার স্টেশন নির্মাণের মতো অবকাঠামো উন্নয়ন রয়েছে, অন্যদিকে সাইবার অপরাধ তদন্ত, ই-পাসপোর্ট, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায়ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

থানা ও পুলিশ অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে বড় বরাদ্দ রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ভবন ও ব্যারাক নির্মাণে। এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ স্থাপনা, পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র এবং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণে আরেকটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৭ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

বিশেষায়িত পুলিশিং সক্ষমতা বাড়াতেও রয়েছে পৃথক উদ্যোগ। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার স্থাপনে প্রায় ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের সরঞ্জাম ও সক্ষমতা উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

সাইবার অপরাধ তদন্তে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৫৯১ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির মাধ্যমে সাইবার অপরাধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের পাশাপাশি প্রকল্প সহায়তার মাধ্যমেও এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

র‌্যাব ও বিজিবির অবকাঠামো উন্নয়ন

বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাবের অবকাঠামো ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও রয়েছে বড় বিনিয়োগ। র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এর বাইরে র‌্যাবের পরিচালন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ৭৩টি আধুনিক কম্পোজিট বর্ডার আউটপোস্ট বা বিওপি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।

গাজীপুরে নবগঠিত ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে পৃথক প্রকল্প। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

কোস্ট গার্ডে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও উপকূলীয় কার্যক্রম শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্যও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রাখা হয়েছে।

লজিস্টিকস ও নৌযান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা স্থাপনের একটি প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রতিস্থাপনযোগ্য নৌযান সংগ্রহের আরেক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মসূচিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হলো বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অ্যান্ড অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের সংশোধিত পর্যায়।

প্রায় ৯ হাজার ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের লক্ষ্য পাসপোর্ট সেবাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনে নতুন অবকাঠামো

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার কমানো এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা বাড়াতেও একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, বিভাগীয় পর্যায়ে নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং জেলা পর্যায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।

সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনে প্রায় ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কারাগার ব্যবস্থায় সংস্কার ও সম্প্রসারণ

কারা ব্যবস্থার অবকাঠামো আধুনিকায়নেও বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছে। ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, জামালপুর ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুনর্নির্মাণ, নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ এবং পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্স সংরক্ষণ ও আশপাশের এলাকার উন্নয়ন এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসে বাড়ছে জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা

অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সেবা জোরদারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্যও একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, পুরোনো স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের একটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৫১ কোটি টাকা। এর আওতায় ১২টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং আটটি বিদ্যমান স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের আরেকটি প্রকল্প রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর সমন্বয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫টি চলমান প্রকল্পের সামগ্রিক চিত্রে নিরাপত্তা খাতে সরকারের বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন স্পষ্ট। প্রচলিত অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, ডিজিটাল পাসপোর্ট, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং দ্রুত জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কিছু প্রকল্প ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বড় একটি অংশের কাজ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, জরুরি উদ্ধার ও অন্যান্য জননিরাপত্তা সেবা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তা আধুনিকায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫ প্রকল্প, ব্যয় হাজার কোটি টাকা

নিরাপত্তা আধুনিকায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫ প্রকল্প, ব্যয় হাজার কোটি টাকা

Update Time : ০৫:৫৭:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং জরুরি সেবার কার্যকারিতা বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, কারা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইং-১-এর প্রকল্প-তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলমান উদ্যোগগুলোতে একদিকে যেমন থানা, পুলিশ স্থাপনা, সীমান্ত ফাঁড়ি, কারাগার ও ফায়ার স্টেশন নির্মাণের মতো অবকাঠামো উন্নয়ন রয়েছে, অন্যদিকে সাইবার অপরাধ তদন্ত, ই-পাসপোর্ট, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায়ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

থানা ও পুলিশ অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে বড় বরাদ্দ রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ভবন ও ব্যারাক নির্মাণে। এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ স্থাপনা, পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র এবং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণে আরেকটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৭ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

বিশেষায়িত পুলিশিং সক্ষমতা বাড়াতেও রয়েছে পৃথক উদ্যোগ। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার স্থাপনে প্রায় ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের সরঞ্জাম ও সক্ষমতা উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

সাইবার অপরাধ তদন্তে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৫৯১ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির মাধ্যমে সাইবার অপরাধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের পাশাপাশি প্রকল্প সহায়তার মাধ্যমেও এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

র‌্যাব ও বিজিবির অবকাঠামো উন্নয়ন

বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাবের অবকাঠামো ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও রয়েছে বড় বিনিয়োগ। র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এর বাইরে র‌্যাবের পরিচালন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ৭৩টি আধুনিক কম্পোজিট বর্ডার আউটপোস্ট বা বিওপি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।

গাজীপুরে নবগঠিত ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে পৃথক প্রকল্প। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

কোস্ট গার্ডে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও উপকূলীয় কার্যক্রম শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্যও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রাখা হয়েছে।

লজিস্টিকস ও নৌযান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা স্থাপনের একটি প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রতিস্থাপনযোগ্য নৌযান সংগ্রহের আরেক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মসূচিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হলো বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অ্যান্ড অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের সংশোধিত পর্যায়।

প্রায় ৯ হাজার ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের লক্ষ্য পাসপোর্ট সেবাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনে নতুন অবকাঠামো

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার কমানো এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা বাড়াতেও একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, বিভাগীয় পর্যায়ে নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং জেলা পর্যায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।

সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনে প্রায় ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কারাগার ব্যবস্থায় সংস্কার ও সম্প্রসারণ

কারা ব্যবস্থার অবকাঠামো আধুনিকায়নেও বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছে। ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, জামালপুর ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুনর্নির্মাণ, নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ এবং পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্স সংরক্ষণ ও আশপাশের এলাকার উন্নয়ন এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসে বাড়ছে জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা

অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সেবা জোরদারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্যও একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, পুরোনো স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের একটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৫১ কোটি টাকা। এর আওতায় ১২টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং আটটি বিদ্যমান স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের আরেকটি প্রকল্প রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর সমন্বয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫টি চলমান প্রকল্পের সামগ্রিক চিত্রে নিরাপত্তা খাতে সরকারের বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন স্পষ্ট। প্রচলিত অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, ডিজিটাল পাসপোর্ট, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং দ্রুত জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কিছু প্রকল্প ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বড় একটি অংশের কাজ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, জরুরি উদ্ধার ও অন্যান্য জননিরাপত্তা সেবা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।