ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
দুই বছর পর দেশে ফিরলেন ভারতে পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি কালকিনিতে বোরকা পরে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণের পর সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ অনলাইন জুয়ার টাকা উত্তোলন নিয়ে বাকবিতন্ডা, অপহরণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা ইশরাকের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ‘খামখেয়ালি পদক্ষেপ’: নিলোফার মনি চার দিনেই ৪২৪ কোটি রুপি আয় রজনীকান্তের ‘জেলার ২’-এর! ভারতকে ২৭-০ গোলে উড়িয়ে স্কুল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেনিন ‘আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ’: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিমানবন্দরে তিন যাত্রীর লাগেজ চুরি, চাঁদপুর থেকে জসিম গ্রেপ্তার সরকারকে পাঁচ বছর কাজের সুযোগ দিতে হবে, ব্যর্থ হলে ভোটেই জবাব দেবে জনগণ: চিফ হুইপ

জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, কমছে ভেন্ডিং মেশিনের পানীয় চাহিদা

  • নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২৫ Time View

জাপানে পোস্ট অফিস, পার্ক ও রেলস্টেশন এমনকি মাউন্ট ফুজির চূড়াতেও ভেন্ডিং মেশিন সর্বত্র দেখা যায়। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির কারণে এসব মেশিনের পানীয় চাহিদা কমে যাচ্ছে।

চাহিদা কমে যাওয়ায় ভেন্ডিং মেশিন ব্যবসায়ীদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

 

গত মাসে পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডাইডো গ্রুপ হোল্ডিংস ঘোষণা দিয়েছে, তারা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে সারা দেশে তাদের প্রায় ২০ হাজার ভেন্ডিং মেশিন সরিয়ে ফেলবে, যাতে লাভজনক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়।

 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

 

নাগোয়া-ভিত্তিক পোক্কা সাপ্পোরো ফুড অ্যান্ড বেভারেজও মার্চে জানিয়েছে, তারা তাদের ৪০ হাজার ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবসা ওসাকার লাইফড্রিঙ্ক কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে।

 

পোক্কা সাপ্পোরোর এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভেন্ডিং মেশিন ব্যবসার মূল শক্তি ছিল নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করা।’

 

তবে তিনি জানান, দাম বাড়ায় মানুষ এখন কম দামে পানীয় পাওয়া যায় এমন দোকানের দিকে ঝুঁকছে।

 

খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৩১ বছর বয়সী তেতসুহারু কাওয়াগুচি বলেন, ভেন্ডিং মেশিন এড়িয়ে চলার প্রধান কারণ হলো দাম বেশি হওয়া।

 

তিনি বলেন, ‘একটি মেশিন থেকে কিনলে সাধারণ পানি কিনতেও প্রায় ১৩০ ইয়েন (প্রায় ৮০ সেন্ট) লাগে। কিন্তু কনভেনিয়েন্স স্টোরে গেলে কখনও কখনও একটু কম দামে পাওয়া যায়, আর ড্রাগস্টোরে তো আরও সস্তায় মেলে।’

 

জাপান দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির বদলে মুদ্রাস্ফীতি কম থাকার সমস্যায় (ডিফ্লেশন) ভুগেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে।

 

পানীয় শিল্প নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনরিও সোকেনের কাজুহিরো মিয়াশিতা বলেন, জ্বালানি ও কর্মচারী ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভেন্ডিং মেশিন ব্যবসার লাভ কমে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ‘খরচ কমিয়ে যদি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলে কনভেনিয়েন্স স্টোরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হতে পারে।’

 

নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তাকায়ুকি ইশিজাকি বলেন, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিও এই খাতে প্রভাব ফেলছে।

 

তিনি বলেন, ‘অনেকে এখন বাইরে থেকে পানীয় না কিনে, নিজের বোতল সঙ্গে নিয়ে বের হন এবং তা পুনরায় ভর্তি করেন।’

 

তবে চাহিদা কমলেও ভেন্ডিং মেশিন খুব দ্রুত হারিয়ে যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, এসব মেশিনে শুধু পানীয় নয়, রামেন নুডলস, কাটা ফল, কিমচি ও ক্রেপও পাওয়া যায়।

 

ইশিজাকি বলেন, ‘জাপানে খুব অল্প হাঁটলেই প্রায় যে কোনো জায়গায় ভেন্ডিং মেশিন পাওয়া যায়— এই সুবিধা সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়।’

 

তিনি আরও বলেন, এখন ব্যবসায়ীরা মেশিন বসানোর ক্ষেত্রে আরও কৌশলী হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।

 

টোকিওর ২৭ বছর বয়সী এক হেয়ারড্রেসার তাইসুকে ওগুরো বলেন, “যেসব জায়গায় কনভেনিয়েন্স স্টোর নেই, সেখানে ভেন্ডিং মেশিন খুবই কাজে লাগে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বছর পর দেশে ফিরলেন ভারতে পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি

জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, কমছে ভেন্ডিং মেশিনের পানীয় চাহিদা

Update Time : ১১:২০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

জাপানে পোস্ট অফিস, পার্ক ও রেলস্টেশন এমনকি মাউন্ট ফুজির চূড়াতেও ভেন্ডিং মেশিন সর্বত্র দেখা যায়। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির কারণে এসব মেশিনের পানীয় চাহিদা কমে যাচ্ছে।

চাহিদা কমে যাওয়ায় ভেন্ডিং মেশিন ব্যবসায়ীদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

 

গত মাসে পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডাইডো গ্রুপ হোল্ডিংস ঘোষণা দিয়েছে, তারা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে সারা দেশে তাদের প্রায় ২০ হাজার ভেন্ডিং মেশিন সরিয়ে ফেলবে, যাতে লাভজনক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়।

 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

 

নাগোয়া-ভিত্তিক পোক্কা সাপ্পোরো ফুড অ্যান্ড বেভারেজও মার্চে জানিয়েছে, তারা তাদের ৪০ হাজার ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবসা ওসাকার লাইফড্রিঙ্ক কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে।

 

পোক্কা সাপ্পোরোর এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভেন্ডিং মেশিন ব্যবসার মূল শক্তি ছিল নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করা।’

 

তবে তিনি জানান, দাম বাড়ায় মানুষ এখন কম দামে পানীয় পাওয়া যায় এমন দোকানের দিকে ঝুঁকছে।

 

খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৩১ বছর বয়সী তেতসুহারু কাওয়াগুচি বলেন, ভেন্ডিং মেশিন এড়িয়ে চলার প্রধান কারণ হলো দাম বেশি হওয়া।

 

তিনি বলেন, ‘একটি মেশিন থেকে কিনলে সাধারণ পানি কিনতেও প্রায় ১৩০ ইয়েন (প্রায় ৮০ সেন্ট) লাগে। কিন্তু কনভেনিয়েন্স স্টোরে গেলে কখনও কখনও একটু কম দামে পাওয়া যায়, আর ড্রাগস্টোরে তো আরও সস্তায় মেলে।’

 

জাপান দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির বদলে মুদ্রাস্ফীতি কম থাকার সমস্যায় (ডিফ্লেশন) ভুগেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে।

 

পানীয় শিল্প নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনরিও সোকেনের কাজুহিরো মিয়াশিতা বলেন, জ্বালানি ও কর্মচারী ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভেন্ডিং মেশিন ব্যবসার লাভ কমে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ‘খরচ কমিয়ে যদি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলে কনভেনিয়েন্স স্টোরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হতে পারে।’

 

নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তাকায়ুকি ইশিজাকি বলেন, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিও এই খাতে প্রভাব ফেলছে।

 

তিনি বলেন, ‘অনেকে এখন বাইরে থেকে পানীয় না কিনে, নিজের বোতল সঙ্গে নিয়ে বের হন এবং তা পুনরায় ভর্তি করেন।’

 

তবে চাহিদা কমলেও ভেন্ডিং মেশিন খুব দ্রুত হারিয়ে যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, এসব মেশিনে শুধু পানীয় নয়, রামেন নুডলস, কাটা ফল, কিমচি ও ক্রেপও পাওয়া যায়।

 

ইশিজাকি বলেন, ‘জাপানে খুব অল্প হাঁটলেই প্রায় যে কোনো জায়গায় ভেন্ডিং মেশিন পাওয়া যায়— এই সুবিধা সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়।’

 

তিনি আরও বলেন, এখন ব্যবসায়ীরা মেশিন বসানোর ক্ষেত্রে আরও কৌশলী হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।

 

টোকিওর ২৭ বছর বয়সী এক হেয়ারড্রেসার তাইসুকে ওগুরো বলেন, “যেসব জায়গায় কনভেনিয়েন্স স্টোর নেই, সেখানে ভেন্ডিং মেশিন খুবই কাজে লাগে।”