ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান সিডনিতে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম ফ্লাইট, ব্যয় ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার চমাশিহা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনির পথচলা শুরু, প্রথম কমিটি ঘোষণা নজরুলের আদর্শে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী যশোরে শার্শায় দাদার বিরুদ্ধে  নাতিকে ধর্ষণের অভিযোগ বোয়ালখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন এমপি এরশাদ উল্লাহ শার্শায় গাঁজা ও বিদেশি মদসহ আটক, কারবারির ৩ বছরের কারাদণ্ড চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের প্রস্তুতি ডিসি জাহিদের জামালগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার, সিলেটে সংযুক্ত এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত ইতালিতে কেন বিক্ষোভ? ব্যয়বৃদ্ধি, সামরিক ব্যয় ও জনঅসন্তোষ

ইতালিতে কেন বিক্ষোভ? ব্যয়বৃদ্ধি, সামরিক ব্যয় ও জনঅসন্তোষ

ইতালির রাজধানী রোমসহ বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো এবং যুদ্ধনীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রোম, তুরিন, বোলোনিয়া, ফ্লোরেন্স ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও পুলিশি অভিযান চালানো হয়।

 

ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভের দিন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩৭১ জনকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৮৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশি হিসাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। আগের সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

 

রোম ও তুরিনে সংঘর্ষ, বোলোনিয়ায় আহত

রাজধানী রোমে শনিবার বিকেলে যুদ্ধবিরোধী স্লোগান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল বের করেন। পরে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে বোতল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ ছাড়া কলোসিয়াম এলাকায়ও বিক্ষোভকারীদের প্রবেশের ঘটনা ঘটে।

তুরিনে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, অস্ত্রের মজুত বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালায়।

বোলোনিয়ায় কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আনসার ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোলোনিয়ায় সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৪ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

মিলানে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফ্লোরেন্সেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে শনিবারের কর্মসূচিতে আগের সপ্তাহের মতো ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

 

সহিংস বিক্ষোভ ঠেকাতে নতুন নিরাপত্তা ডিক্রি

বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর জননিরাপত্তা জোরদার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন ডিক্রি জারি করেছে ইতালির সরকার।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডিক্রি-ল নং ১৯০ জারি করা হয় এবং ২৩ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়। এর লক্ষ্য জননিরাপত্তা, নগর নিরাপত্তা, জনসমাবেশের শৃঙ্খলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের ক্ষমতা জোরদার করা।

 

নতুন ডিক্রিতে কী কী বিধান রয়েছে?

১. সহিংস বিক্ষোভে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

নতুন বিধান অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির একটি দলের অংশ হয়ে বিক্ষোভের সময় পাথর, আতশবাজি বা লাঠি নিক্ষেপ করে জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। মুখ ঢেকে অপরাধ করা বা কাউকে আহত করার মতো পরিস্থিতিতে শাস্তি আরও বাড়তে পারে।

 

২. সংঘবদ্ধ সহিংসতা উসকে দিলে কঠোর শাস্তি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ দল গঠনে উৎসাহ দেওয়া বা তা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে পৃথক অপরাধের বিধান রয়েছে। ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও এ ধরনের অপরাধের জন্য চার থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানের কথা জানিয়েছেন। তবে শাস্তি নির্ভর করবে নির্দিষ্ট অপরাধের উপাদান ও আইনের প্রয়োগের ওপর।

 

৩. অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

ডিক্রিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহিংস বিক্ষোভে জড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রতিরোধমূলক আটকসংক্রান্ত ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের অপরাধমূলক কাজ বোঝার সক্ষমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনে নির্ধারিত শর্ত ও ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।

 

৪. অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভাঙচুরে অভিভাবকের দায়

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কারণে সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়ী করার বিধানও রয়েছে। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

 

মিলানে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা

বিক্ষোভের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ইতালির সরকার। মিলানে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহের সহিংসতায় দোকানপাটে লুটপাট, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পর সরকার নতুন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে।

 

বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামরিক নীতি

ইতালির বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিরোধিতা গুরুত্ব পেয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সরকারবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানও দেখা গেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই সহিংসতা দমনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নতুন নিরাপত্তা ডিক্রির প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে।

ইতালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—একদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করা। নতুন ডিক্রির বাস্তব প্রয়োগ এবং আগামী দিনগুলোতে বিক্ষোভের পরিস্থিতি দেশটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তথ্যসূত্র: ইতালির সরকারি গেজেট, আনসা, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

আরও আন্তর্জাতিক সংবাদ পড়ুন:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান

ইতালিতে কেন বিক্ষোভ? ব্যয়বৃদ্ধি, সামরিক ব্যয় ও জনঅসন্তোষ

Update Time : ০৬:৫৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ইতালির রাজধানী রোমসহ বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো এবং যুদ্ধনীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রোম, তুরিন, বোলোনিয়া, ফ্লোরেন্স ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও পুলিশি অভিযান চালানো হয়।

 

ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভের দিন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩৭১ জনকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৮৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশি হিসাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। আগের সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

 

রোম ও তুরিনে সংঘর্ষ, বোলোনিয়ায় আহত

রাজধানী রোমে শনিবার বিকেলে যুদ্ধবিরোধী স্লোগান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল বের করেন। পরে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে বোতল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ ছাড়া কলোসিয়াম এলাকায়ও বিক্ষোভকারীদের প্রবেশের ঘটনা ঘটে।

তুরিনে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, অস্ত্রের মজুত বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালায়।

বোলোনিয়ায় কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আনসার ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোলোনিয়ায় সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৪ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

মিলানে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফ্লোরেন্সেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে শনিবারের কর্মসূচিতে আগের সপ্তাহের মতো ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

 

সহিংস বিক্ষোভ ঠেকাতে নতুন নিরাপত্তা ডিক্রি

বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর জননিরাপত্তা জোরদার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন ডিক্রি জারি করেছে ইতালির সরকার।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডিক্রি-ল নং ১৯০ জারি করা হয় এবং ২৩ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়। এর লক্ষ্য জননিরাপত্তা, নগর নিরাপত্তা, জনসমাবেশের শৃঙ্খলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের ক্ষমতা জোরদার করা।

 

নতুন ডিক্রিতে কী কী বিধান রয়েছে?

১. সহিংস বিক্ষোভে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

নতুন বিধান অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির একটি দলের অংশ হয়ে বিক্ষোভের সময় পাথর, আতশবাজি বা লাঠি নিক্ষেপ করে জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। মুখ ঢেকে অপরাধ করা বা কাউকে আহত করার মতো পরিস্থিতিতে শাস্তি আরও বাড়তে পারে।

 

২. সংঘবদ্ধ সহিংসতা উসকে দিলে কঠোর শাস্তি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ দল গঠনে উৎসাহ দেওয়া বা তা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে পৃথক অপরাধের বিধান রয়েছে। ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও এ ধরনের অপরাধের জন্য চার থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানের কথা জানিয়েছেন। তবে শাস্তি নির্ভর করবে নির্দিষ্ট অপরাধের উপাদান ও আইনের প্রয়োগের ওপর।

 

৩. অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

ডিক্রিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহিংস বিক্ষোভে জড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রতিরোধমূলক আটকসংক্রান্ত ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের অপরাধমূলক কাজ বোঝার সক্ষমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনে নির্ধারিত শর্ত ও ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।

 

৪. অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভাঙচুরে অভিভাবকের দায়

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কারণে সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়ী করার বিধানও রয়েছে। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

 

মিলানে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা

বিক্ষোভের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ইতালির সরকার। মিলানে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহের সহিংসতায় দোকানপাটে লুটপাট, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পর সরকার নতুন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে।

 

বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামরিক নীতি

ইতালির বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিরোধিতা গুরুত্ব পেয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সরকারবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানও দেখা গেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই সহিংসতা দমনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নতুন নিরাপত্তা ডিক্রির প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে।

ইতালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—একদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করা। নতুন ডিক্রির বাস্তব প্রয়োগ এবং আগামী দিনগুলোতে বিক্ষোভের পরিস্থিতি দেশটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তথ্যসূত্র: ইতালির সরকারি গেজেট, আনসা, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

আরও আন্তর্জাতিক সংবাদ পড়ুন: