দীর্ঘ প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আবারও চালু হয়েছে এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) সেবা। সরকারি উদ্যোগে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত মেশিনটি সচল হওয়ায় এখন থেকে তুলনামূলক কম খরচে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করাতে পারবেন রোগীরা।
বেসরকারি диагностিক সেন্টারে যেখানে একটি এমআরআই পরীক্ষায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়, সেখানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একই পরীক্ষা করা যাবে মাত্র ৩ হাজার টাকায়। এতে বিশেষ করে নিম্নআয়ের রোগীরা বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এমআরআই মেশিনটি স্থাপন করা হয়। কয়েক বছর চালু থাকার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন মেশিনটি বন্ধ থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় এমআরআই পরীক্ষা করাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হতো।
সম্প্রতি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেশিনটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন কার্ডিওলজিস্ট ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. একরাম হোসেন। বিষয়টি সমাধানে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেন। পরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানও মেশিনটি সচলের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান মেশিনটির কারিগরি ত্রুটি নিরসনে কাজ শুরু করে। কয়েক দিনের মেরামত শেষে বুধবার (১৯ আগস্ট) মেশিনটি পুনরায় সচল করা হয়। রেডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও এমআরআই তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিনাক্ষী রায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন থেকে ব্রেইন, সারভাইকাল স্পাইন, শোল্ডার জয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের এমআরআই পরীক্ষা হাসপাতালেই করা সম্ভব হবে। রোগীদের দ্রুত ও নির্ভুল সেবা নিশ্চিত করতে রেডিওলজি বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
ডা. মিনাক্ষী রায় বলেন, মেশিনটি চালু হওয়ায় রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আবারও উন্মুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে জটিল রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এমআরআই পরীক্ষা এখন হাসপাতাল থেকেই করানো যাবে।
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, কয়েক বছর আগে মেশিনটি চালু হলেও কিছুদিন পর আবার কারিগরি সমস্যায় অচল হয়ে যায়। জেনারেল হাসপাতালে মূলত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে কম খরচে এমআরআই সেবা চালু হওয়ায় এসব রোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপও কিছুটা কমবে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম বারবার নষ্ট হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকায় যন্ত্রপাতির ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। পাশাপাশি মেশিন নষ্ট হলে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো প্রকৌশলী বা টেকনিশিয়ান দিয়ে মেরামতের সুযোগ নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারকে (নিমো) জানাতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কারিগরি দল এসে মেরামতের কাজ করে। এতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।
এদিকে গত জুন মাসে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবাও চালু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত রোগীদের ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। এমআরআই সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়ল।
দীর্ঘদিন পর সরকারি হাসপাতালে কম খরচে এমআরআই সেবা চালু হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মেশিনটির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও সচল রাখা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 


















