ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বাঁশখালীতে ৭ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ রুবেলের ৫ উইকেট, সাব্বিরের ব্যাটে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ এইচপি নেপালে বন্যার পানিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ, শতাধিক মানুষ উদ্ধারে অভিযান কলমাকান্দায় চারা গাছ উপড়ে ফেলা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের নারী শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হলে এগিয়ে যাবে দেশ: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যশোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ আব্বাস-আলির বোলিং তাণ্ডবে প্রথম দিনেই চাপে ইংল্যান্ড অ্যানথ্রোপিকের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বেআইনি: মার্কিন আদালত বার্ড ফ্লুর আশঙ্কায় ম্যাককুয়ারি দ্বীপ থেকে ২৪ কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া রায়পুরে খালে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

বার্ড ফ্লুর আশঙ্কায় ম্যাককুয়ারি দ্বীপ থেকে ২৪ কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম ম্যাককুয়ারি দ্বীপের গবেষণাকেন্দ্র থেকে ২৪ জন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্ভাব্য আক্রান্ত প্রাণীর ব্যাপক মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট মনোসামাজিক ঝুঁকি বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সিডনি থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

তাসমানিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার মাঝামাঝি ম্যাককুয়ারি দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। দ্বীপটিতে বিপুলসংখ্যক এলিফ্যান্ট সিলের বসবাস। প্রাণীগুলো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ম্যাককুয়ারি দ্বীপে বার্ড ফ্লুর কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। তবে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এলিফ্যান্ট সিলের প্রজনন মৌসুমে সেখানে বিপুলসংখ্যক প্রাণীর মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, পরিবেশ ও পানি বিষয়ক দপ্তরের উপসচিব শন সুলিভান বলেন, মানুষের মধ্যে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত প্রাণীর কাছাকাছি বসবাসের কারণে গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীদের ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অভিযাত্রী দলের সদস্যরা এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করছেন। তাই তাদের সুস্থতা এবং গবেষণাকেন্দ্রের নিরাপদ কার্যক্রমে অতিরিক্ত কোনো ঝুঁকি তৈরি হলে তা আগেভাগেই কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাককুয়ারি দ্বীপে কর্মরত ২৪ জন কারিগরি কর্মী, বিজ্ঞানী ও সহায়ক কর্মীকে আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরের শুরুতে আরএসভি নুইনা আইসব্রেকারের মাধ্যমে দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে জুন মাসে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার আরেক দুর্গম ভূখণ্ড হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণে হাজার হাজার এলিফ্যান্ট সিলের শাবকের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এইচ৫ ভাইরাস পোলট্রি ও বন্য পাখির মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণ ও মৃত্যুর কারণ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অস্ট্রেলিয়া ছিল এইচ৫ ভাইরাসমুক্ত একমাত্র মহাদেশীয় ভূখণ্ড।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ৩৪১টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে দেশটির পোলট্রি খাত কিংবা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় এখনো এ ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে ৭ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

বার্ড ফ্লুর আশঙ্কায় ম্যাককুয়ারি দ্বীপ থেকে ২৪ কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

Update Time : ১১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম ম্যাককুয়ারি দ্বীপের গবেষণাকেন্দ্র থেকে ২৪ জন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্ভাব্য আক্রান্ত প্রাণীর ব্যাপক মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট মনোসামাজিক ঝুঁকি বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সিডনি থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

তাসমানিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার মাঝামাঝি ম্যাককুয়ারি দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। দ্বীপটিতে বিপুলসংখ্যক এলিফ্যান্ট সিলের বসবাস। প্রাণীগুলো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ম্যাককুয়ারি দ্বীপে বার্ড ফ্লুর কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। তবে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এলিফ্যান্ট সিলের প্রজনন মৌসুমে সেখানে বিপুলসংখ্যক প্রাণীর মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, পরিবেশ ও পানি বিষয়ক দপ্তরের উপসচিব শন সুলিভান বলেন, মানুষের মধ্যে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত প্রাণীর কাছাকাছি বসবাসের কারণে গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীদের ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অভিযাত্রী দলের সদস্যরা এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করছেন। তাই তাদের সুস্থতা এবং গবেষণাকেন্দ্রের নিরাপদ কার্যক্রমে অতিরিক্ত কোনো ঝুঁকি তৈরি হলে তা আগেভাগেই কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাককুয়ারি দ্বীপে কর্মরত ২৪ জন কারিগরি কর্মী, বিজ্ঞানী ও সহায়ক কর্মীকে আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরের শুরুতে আরএসভি নুইনা আইসব্রেকারের মাধ্যমে দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে জুন মাসে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার আরেক দুর্গম ভূখণ্ড হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণে হাজার হাজার এলিফ্যান্ট সিলের শাবকের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এইচ৫ ভাইরাস পোলট্রি ও বন্য পাখির মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণ ও মৃত্যুর কারণ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অস্ট্রেলিয়া ছিল এইচ৫ ভাইরাসমুক্ত একমাত্র মহাদেশীয় ভূখণ্ড।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ৩৪১টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে দেশটির পোলট্রি খাত কিংবা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় এখনো এ ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।