ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ পটুয়াখালীতে নকল বিদেশি সিগারেটসহ নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ নেপালে বন্যায় টানেলে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বাধা, বাড়ছে উৎকণ্ঠা আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন মো. হাবিবুল গনি তিব্বতে পাহাড়ি ঢল-ভূমিধসে নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬ ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন সুযোগ: সংশয়ের পাশাপাশি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল বরখাস্ত, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল বাগেরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

উত্তর কোরিয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল বরখাস্ত, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির সামরিক ও দলীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে বলে রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, শনিবার দেশটির নেতা কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের কাঠামো পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের পরই নো কোয়াং চোল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারান।

 

তবে তাকে পুরোপুরি নেতৃত্বের বাইরে রাখা হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেও পদ পরিবর্তনের পাশাপাশি নো কোয়াং চোলকে দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গি। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তাকে ক্ষমতাসীন দলের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্যও করা হয়েছে।

 

সামরিক ও দলীয় কাঠামোর আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদোন্নতির কথাও জানিয়েছে কেসিএনএ। তবে এই রদবদলের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

নতুন সামরিক প্রযুক্তিতে গুরুত্ব

 

এদিকে সামরিক প্রযুক্তিতে অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন কিম জং উন। শনিবার এক অনুষ্ঠানে তাদের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হয় বলে কেসিএনএর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরস্কারপ্রাপ্তরা নতুন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে অবদান রেখেছেন। তবে কী ধরনের অস্ত্র বা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং।

 

কেসিএনএ আরও দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রতি এমন কিছু বিশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা দেশটির যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রযুক্তির প্রকৃতি বা ব্যবহার সম্পর্কেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

এর আগে জুনের শেষ দিকে কিম জং উন নতুন দূরপাল্লার একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা ও কামানের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

 

তিন দেশের সামরিক মহড়া সামনে

 

উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।

 

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ‘ফ্রিডম এজ’ নামে তিন দেশের একটি যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মহড়াটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই বার্ষিক মহড়া আয়োজন করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নতুন করে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে দুবার বৈঠক হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়নি।

 

উত্তর কোরিয়া একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতারও তীব্র সমালোচনা করছে। ফলে নতুন সামরিক নেতৃত্বের এই রদবদল এবং সামরিক প্রযুক্তিতে পিয়ংইয়ংয়ের জোর দেওয়ার বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

উত্তর কোরিয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল বরখাস্ত, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল

Update Time : ১০:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির সামরিক ও দলীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে বলে রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, শনিবার দেশটির নেতা কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের কাঠামো পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের পরই নো কোয়াং চোল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারান।

 

তবে তাকে পুরোপুরি নেতৃত্বের বাইরে রাখা হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেও পদ পরিবর্তনের পাশাপাশি নো কোয়াং চোলকে দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গি। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তাকে ক্ষমতাসীন দলের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্যও করা হয়েছে।

 

সামরিক ও দলীয় কাঠামোর আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদোন্নতির কথাও জানিয়েছে কেসিএনএ। তবে এই রদবদলের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

নতুন সামরিক প্রযুক্তিতে গুরুত্ব

 

এদিকে সামরিক প্রযুক্তিতে অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন কিম জং উন। শনিবার এক অনুষ্ঠানে তাদের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হয় বলে কেসিএনএর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরস্কারপ্রাপ্তরা নতুন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে অবদান রেখেছেন। তবে কী ধরনের অস্ত্র বা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং।

 

কেসিএনএ আরও দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রতি এমন কিছু বিশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা দেশটির যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রযুক্তির প্রকৃতি বা ব্যবহার সম্পর্কেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

এর আগে জুনের শেষ দিকে কিম জং উন নতুন দূরপাল্লার একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা ও কামানের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

 

তিন দেশের সামরিক মহড়া সামনে

 

উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।

 

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ‘ফ্রিডম এজ’ নামে তিন দেশের একটি যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মহড়াটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই বার্ষিক মহড়া আয়োজন করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নতুন করে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে দুবার বৈঠক হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়নি।

 

উত্তর কোরিয়া একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতারও তীব্র সমালোচনা করছে। ফলে নতুন সামরিক নেতৃত্বের এই রদবদল এবং সামরিক প্রযুক্তিতে পিয়ংইয়ংয়ের জোর দেওয়ার বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।